মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার ইবনে জুবায়ের রাজীব মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন পড়ালেখা করতে। ভর্তি হয়েছিলেন মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। রাজীবের বাড়ি মাগুরায়। স্কুলজীবন কাটিয়েছেন স্থানীয় শিবরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল। স্কুলে পড়ার সময় অংশ নিয়েছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ইয়ং টাইগার প্রতিযোগিতায়। এ প্রতিযোগিতায় একবার তাদের স্কুল মাগুরা জেলায় চ্যাম্পিয়ন এবং দু’বার রানার্সআপ হয়।
স্কুল দলের সঙ্গে থাকলেও মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রথম কিছুদিন ক্রিকেটের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। পড়াশোনার কথা মাথায় রেখে ক্রিকেটকে একপ্রকার না-ই করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার জীবনে একটি বাঁক নিয়ে আসে। ইলিয়াস রুমি, ইবনে জুবায়ের রাজীব, মাজেদুল আলম, টিটু আহমেদ দোলন, নয়নসহ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি একটি ক্রিকেট ক্লাব গঠনের উদ্যোগ নেন। এটিই মালয়েশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেট ক্লাব ‘বাংলাদেশ কিংস প্যারাগনস’। বর্তমানে এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১২০ এবং খেলোয়াড় সংখ্যা ৩৫। দলে ইলিয়াস রুমি অধিনায়ক এবং রাজীব সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্লাবের অধীন কারা খেলছেন জানতে চাইলে ইলিয়াস রুমি বলেন, ‘আমাদের ক্লাবে যারা খেলে থাকেন তাদের বেশিরভাগ ছাত্র। পড়াশোনা করছেন লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজ, এলিট ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, ভিক্টোরিয়া কলেজসহ এখানকার স্থানীয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন তারা একসময় এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা শেষ করে বর্তমানে এখানে ব্যবসা করছেন।’
মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তাই এখানে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার কাজটাও করতে হচ্ছে বিকেপিকে। সাধারণত তারা রোববার অনুশীলন করে থাকেন। রাজীব বলেন, ‘বাংলাদেশি ছাত্রদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে খণ্ডকালীন কাজ করে থাকেন। তাই আমরা রোববার দিনে অনুশীলন করে থাকি। অনুশীলন হয়ে থাকে কুয়ালালামপুরের কিলানজায়া স্কুল মাঠে।’
ক্লাব হিসেবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বিকেপি। প্রতি বছর আয়োজন করছে দুটি টুর্নামেন্ট। অংশ নিয়ে থাকে অন্যদের আয়োজন করা ক্রিকেট ম্যাচেও। ইলিয়াস রুমি বলেন, ‘আমরা বছরে দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকি। ১৬ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে হয় বিকেপি ভিক্টোরি লীগ। গত বছর এ টুর্নামেন্টে নয়টি দল অংশ নিয়েছিল।
বাংলাদেশিদের নিয়ে ছয়টি দল, নেপালি, শ্রীলংকান ও পাকিস্তানিদের একটি করে দল ছিল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশিদের দল দি সুপার রাইডার্স। বছরের যে কোনো সুবিধাজনক সময়ে আয়োজন করে থাকি বিকেপি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। গত বছর এটি অক্টোবরে হয়েছিল। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো কুয়ালালামপুরে শাহ আলম ক্রিকেট ফিল্ডে হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রতি বছর লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তঃবিভাগ টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে।’
পর্যাপ্ত অনুশীলন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিকেপির অধীন বর্তমানে ছয়টি ছোট দল খেলে থাকে। এসব দলের রয়েছে মালিকানা ব্যবস্থাও। টুর্নামেন্টের আগে ছোট পরিসরে কয়েক দিন নিয়মিত অনুশীলনও করা হয়।
দলের দু’জন খেলোয়াড় খেলে থাকেন পেশাদার ক্রিকেট লীগে। টিটু আহমেদ দোলন খেলছেন কেএল টাইটানস ক্লাবে ওপেনার হিসেবে এবং ইবনে জুবায়ের রাজীব রয়েল সেলাঙ্গর ক্লাবে খেলছেন উইকেট কিপার এবং ব্যাটসম্যান হিসেবে। মালয়েশিয়া আইসিসির সদস্য কিংবা সহযোগী সদস্যও নয়। পেশাদার লীগে খেললে কেমন সম্মানী দিয়ে থাকে জিজ্ঞাসা করলে দোলন বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো পেশাদার ক্রিকেট এখানে দাঁড়ায়নি এখনও। এখানে বছর অনুসারে চুক্তি হয় না। ম্যাচ অনুসারে সম্মানী দেওয়া হয়। প্রতি ম্যাচের জন্য ৪০০ রিঙ্গিত পেয়ে আসছি।’
বাংলাদেশিরা নিজেদের মধ্যে যেমন খেলে থাকেন তেমনি অন্য দেশের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা হয়। সবচেয়ে মজার ক্রিকেট ম্যাচ হিসেবে রাজীবের চোখে উঠে এসেছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচকে। খেলাটি হয়েছিল কিলানজায়া স্কুল ফিল্ডে। পাকিস্তানিদের সে দল এসেছে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরের কাগাং থেকে। ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল। প্রত্যেকের বয়স ছিল ত্রিশের ওপরে। উচ্চতা, ফিটনেসের দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। আমরা সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছিলাম, তারা পাঞ্জাবির ওপর ইন করে প্যান্ট পরেছিল।
মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া খুব বেশি দূরে নয়। সেখানে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলছে। তাই এ ক্লাবের সদস্যদের অনেকেই সময় বের করে খেলা দেখতে যান অস্ট্রেলিয়ায়। সম্প্রতি পিপীলিকা প্রডাকশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ দলকে শুভ কামনা জানিয়ে তারা প্রকাশ করেছেন একটি ভিডিও। বিশ্বকাপে ভালো করবে এমন প্রত্যাশা বিকেপি ক্রিকেট দলের সভাপতি ইলিয়াস রুমির। ‘বাংলাদেশ দল বোলিং, ব্যাটিং সবদিক থেকে ক্রিকেটের যে কোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশ এবার আরও ভালো করবে।’


