মাগুরানিউজ.কমঃ
আজ মাগুরায় আবারো ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টায় এ ভূকম্পন অনুভূত হয়।আবারো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মাগুরা, আতংকিত জনগন। তবে গতকালের তুলনায় অনেকটাই কম।
গতকালের ভূমিকম্পের সময় কোথাও দু’দফায় কোথাও তিন দফায় আবার কোথাও দফায় দফায় কাঁপতে থাকে বাড়িঘর দালানকোটাসহ সবকিছু।
এদিকে যে কোনো সময় বাংলাদেশে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের ভূমিকম্প। এতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখিন হবে সারাদেশ। এমনটাই মনে করছেন ভূতত্ব-বিদরা।
সম্প্রতি ‘টাইম প্রেডিক্টেবল ফল্ট মডেলিং ফর সিসমিক হ্যাজার্ড অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শক্তিশালি ভূমিকম্পের হুমকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। ভৌগোলিক দিক দিয়ে এদেশের অবস্থান ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প হওয়ার মতো ভূ-চ্যুতি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই মাত্রার ভূমিকম্পে এখানে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হতে পারে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে একমিনিট স্থায়ী ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঘটতে পারে ভয়াবহ বিপর্যয়। এ ধরনের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা। কারণ রাজধানীতে মাকড়সার জালের মতো গ্যাস পাইপলাইন, বিদ্যুতের তার এলোমেলো ও প্রতি বাড়িতে সাব-স্টেশন। এতে ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে। জাতিসংঘের এক জরিপে বিশ্বের ২০টি ভূ-তাত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় ঢাকার নাম অন্তর্ভূক্ত করেছে।
ভূতত্ত্ব-বিদদের মতে, দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামও রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে। বুয়েটের গবেষকদের প্রস্তুত করা ভূ-কম্পন এলাকাভিত্তিক মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১ শতাংশ এলাকা মধ্যম (জোন-২) এবং ১৬ শতাংশ এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে।
জোন-১-এর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পূর্ণ অংশ এবং ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের অংশবিশেষ। জোন-২-এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও ঢাকা।
জোন-৩-এ রয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সব দ্বীপ ও চর। আর জোন-১-এ অবস্থিত বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল ভূমিকম্পজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। কারণ সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ভারতের শিলংকে বিভক্ত করেছে ডাওকি নদী। এই ডাওকি নদী ডাওকিচ্যুতি বরাবর অবস্থান করছে, আর ভূতাত্ত্বিক চ্যুতিগুলোই বড় ধরনের ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল।
অবশ্য মানসম্পন্ন বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভূমিকম্প সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনতে পারে।


