মাগুরানিউজ.কমঃ
বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে- এই গানটি কেউ শোনেননি বা ছবিটি কেউ দেখেননি এমন কোনো দর্শক খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ পার করেছে ২৫টি বছর। ১৯৮৯ সালের ৯ জুন এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। আনন্দমেলা চলচ্চিত্র প্রযোজিত এই ছবিটির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তোজাম্মেল হক বকুল।
ছবিটি প্রসঙ্গে প্রযোজক আব্বাস উল্লাহ শিকদার বলেন, ‘৮৯ সালের আগে সাত-আট বছর কোনো ফোক ছবি হয়নি। তখন আমরা ভাবলাম, দর্শকদের ফোক ছবি উপহার দেওয়া যায়। তখন বকুলকে বললাম, একটি ফোক ছবির গল্প শোনাতে। এর আগে ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছে। বেদের মেয়ে জোসনা ছিল তার প্রথম ছবি। পরে ও একটি গল্প শোনায়। আমরা সেটাকে আরও আধুনিকায়ন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে সময়েই ৬৭ লাখ টাকা খরচ করে ছবিটি বানানো হয়। প্রথমে ২০টি সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি দিয়েছিলাম। পরে ছবিটির কত যে প্রিন্ট করেছি, তার হিসাব নেই। ছবিটি টানা ছয়-সাত মাস চলেছে। এখন তো অনেক ছবি এক সপ্তাহও চলে না।’
ছবির কাহিনীতে দেখা যায়, বঙ্গরাজের এক পরগনার কাজী সাহেবের (প্রবীর মিত্র) একমাত্র দশ বছরের মেয়ে জোসনাকে সাপে কাটে। তাকে বাঁচানোর সকল চেষ্টা ব্যর্থ হলে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীতে। ভাসতে ভাসতে সেই ভেলা নদীর তীরের একটি বেদে বহরের কাছে এসে থামে। বেদে বহরের নিঃসন্তান বেদে সর্দার (সাইফুদ্দিন) তাকে ভালো করে তোলে এবং জোসনা নামেই নিজের নাতনির মতো একজন পেশাদার বেদেনি হিসেবে গড়ে তোলে। জোসনা একদিন রাজবাড়ি থেকে সাপ খেলা দেখিয়ে ফেরার পথে বঙ্গরাজের উজিরপুত্র মোবারক (নাসির খান) জোসনার সম্মানহানি করতে চায়। আর এমন সময় রাজকুমার আনোয়ার (ইলিয়াস কাঞ্চন) এসে তাকে উদ্ধার করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্য গভীর প্রেম হয়ে যায়। এরপরেই ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে।
‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ। এ ছাড়া আরও অভিনয় করেন শওকত আকবর, রওশন জামিল, প্রবীর মিত্র, সুষমা, সাইফুদ্দিন, নাসির খান প্রমুখ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পুনর্নির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়। মতিউর রহমান পানুর পরিচালনায় ওই ছবিতে অভিনয় করেন অঞ্জু ঘোষ এবং চিরঞ্জিত।
বেদের মেয়ে জোসনা ছবির গান লিখেছেন পরিচালক তোজাম্মেল হক বকুল এবং সংগীত পরিচালনা করেন আবু তাহের। রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে ‘মায়ায় গড়া এই সংসারে’, ‘ও তুই ডাকলি যারে আপন করে’, সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘ও রানী সালাম বারেবার’, রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘এসো এসো শাহাজাদা’ ও ‘বেদের মেয়ে জোসনা আমায়’ রুনা লায়লার কণ্ঠে, ‘প্রেম যমুনা সাঁতার দিলাম’, ‘কি ধন আমি চাইবো রাজা’, ‘মেরনা মেরনা জল্লাদ’, সাবিনা ইয়াসমিন ও এন্ড্রু কিশোরের কণ্ঠে ‘আমারো লাগিয়া রে বন্ধু’, খুরশিদ আলম ও রুনা লায়লার কণ্ঠে ‘ওরে তারা তুই দিলি ধরা’ ও মুজিব পরদেশীর কণ্ঠে ‘মা, আমি বন্দি কারাগারে’ গানগুলো জনপ্রিয়তা পায়।


