মাগুরানিউজ.কমঃ
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি. …………..!!
মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি এদেশের ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল।
তাঁদের আত্মদানকে চিরঅম্লান করে রাখার উদ্দেশ্যে সেদিন ঢাকা মেডিক্যলি কলেজের ছাত্ররা রক্তভেজা সেই স্থানে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ছাত্রদের ওই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পেছনে ঢাকার এক সর্দার অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনিই নিজের ইট, বালি, সিমেন্ট ও রড দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ছাত্রদের সাহায্য করেন।
পিয়ারু সর্দার (১৮৯৩-১৯৬১) ছিলেন বকশিবাজার। হোসেনী দালান, নাজিমউদ্দিন রোড, পলাশী, আজিমপুর, নুরফাতা লেন ও উদর্ু রোড এলাকার সর্দার। সর্দারগিরির পাশাপাশি তিনি প্রথমশ্রেণীর ঠিকাদার ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মাতৃভাষা আন্দোলন পিয়ারু সর্দারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রায়ই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত। পুলিশের তাড়া খেয়ে তারা রেললাইন পার হয়ে পিয়ারু সর্দারের কাছে এসে আশ্রয় নিত। এসব কারণে ছাত্রদের মধ্যেও পিয়ারু সর্দারের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি ছিল।
ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে ছাত্র-জনতার বীরোচিত মৃত্যু পিয়ারু সর্দারকেও নাড়া দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা সেই রক্তভেজা স্থানে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়। ছাত্ররা পিয়ারু সর্দারের কাছে গিয়ে নিজেদের অভিপ্রায় জানায়৷ পিয়ারু সর্দার ছাত্রদের কথা শুনে কালবিলম্ব না করে দুই জন রাজমিস্ত্রি এবং ইট, বালি, সিমেন্টের ব্যবস্খা করে দেন৷ ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের শ্রমে পিয়ারপুর সর্দারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয় ভাষা শহীদদের উদ্দেশে দেশে প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। সেদিন যে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পিয়ারু সর্দার ভাষা শহীদদের উদ্দেশে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে এগিয়ে এসেছিলেন তা ছিল দুঃসাহসিক কাজ।
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদদের সাথে এই মহান ভাষা সৈনিককেও শ্রদ্ধায় স্মরণ করি৷

