মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরের বালিদিয়া এখন এক আতঙ্কের গ্রাম।দুই দফায় অন্তত: ৪০টি বাড়ি ও দোকানপাট হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট শেষে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। বালিদিয়া উত্তরপাড়াজুড়ে শুধুই পোড়াগন্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। সর্বস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৪০টি পরিবারে হাহাকার-কান্নাররোল। উপজেলার বালিদিয়া গ্রামে প্রভাব বিস্তারের জের ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মিনা ও ইউনুস শিকদারের সমর্থকরা দুই দফায় ওই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুই দফার উন্মত্ত সহিংসতার পর উপজেলার বালিদিয়া এখন এক আতঙ্কের গ্রাম।
দেখা গেছে, ১৫টি পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। এক কাপড়ে অর্ধাহারে অনাহারে আছেন তারা। এসব পরিবারের পানি খাওয়ার একটা পাত্র পর্যন্ত নেই। স্বজনদের পাঠানো খাবার খেয়ে তারা বেঁচে আছেন। ক্ষেত খামার চাষ বাস সব বন্ধ। নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল। শিশুদের বই খাতা নেই, স্কুলে যাওয়া বন্ধ। গবাদি পশুগুলো রয়েছে অভুক্ত। মকবুল সর্দারের স্ত্রী রুকি বেগম (৬৫) বলেন, ‘যুদ্ধের বছরেও এমন সর্বনাশ হতি দেহি নেই।’
প্রতিবন্ধী কামালের স্ত্রী আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘স্বামী অচল। রাইসমিল ও দোকান করে কোনমতে সংসার চালাতাম। চোখের সামনে আগুন দিলো। সব ছাই হয়ে গেল।’
কামাল মোল্যা বলেন, ‘সব বিক্রি করে বাড়ির সঙ্গে একটা দোকান করেছিলাম। গত রাতে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’
বালিদিয়া গ্রামে পুরুষ লোকজন তেমন নেই। হামলা-মামলার ভয়ে অধিকাংশই বাড়ি ছাড়া। বৃদ্ধ নারী ও শিশুরা বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন। তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। কয়েকজনকে দেখা গেছে পুড়ে যাওয়া ভিটায় আবার বাঁশ, পোড়া টিন ও পলিথিন দিয়ে রাত্রি যাপনের জন্য মাথার উপর একটি ছাউনি দাড় করানোর চেষ্টা করছেন। প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনার বদলা নিতে যে কোন সময় আবার হামলা চালাবে এমন গুজব সর্বত্র। অনেকে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মূল্যবান মালপত্র, গৃহস্থালী সামগ্রী ও গবাদি পশু সরিয়ে নিয়েছেন।
মহম্মদপুর থানার ওসি মতিয়ারর রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


