মাগুরানিউজ.কমঃ
পথে পথে ঘুরে রং করা কাগজ এবং প্লাসটিকের ফুল বিক্রি করে চলে সংসার। সারা দিন বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ফুল বিক্রি করি। বিকেল হলেই যেখানে থাকি সেই স্থানে চলে আসি। এভাবে কথা গুলো জানালেন, নওগা জেলার আত্রাই থানার জাম গ্রামের নয়ন হোসেন। তিনি আরো জানান, পিতা এখন বৃদ্ধ, কঠিন কাজ করতে পারেনা। আমরা দুই ভাই এক বোন। বোন বড় আর আমি মেজো।
সংসার চলার মত তেমন কোন জায়গা জমি নেই। বাবা পরের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতো। বয়সের ভারে এখন আর কঠিন কাজ করার মত শক্তি তার শরীরে নেই। আমি কোন দিন স্কুলে যাইনি। বাবার সাথে পরের জমিতে কোন রকম কাজ করতাম। আর একটা মাদ্রাসার হুজুরের নিকট আরবি পড়া শিখেছি। আমার বয়স তো বেশি নয়। তাই একা কাজ করতে গেলে কেউ কাজ করতে নেয়না। আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় বোন তার গ্রাম থেকে ফুল বানাতে শিখেছে।
তিনি আমার কাগজের ফুল আর প্লাস টিকের ফুল বানানো শিখিয়েছেন তাই এখন ফুল তৈরি করে দীর্ঘ দিন ফুল বিক্রি করে আসছি। বাবাও আমার কাছ থেকে ফুল তৈরি করা শিখে ফেলেছে। তাই আমি যেখানে যাই, বাবা আমার সাথে চলে আসে। বর্তমানে আমি মাগুরার একটা স্কুলের বারান্দায় থাকি। যেখানেই যাই কোন স্কুল ঘর না হয় বাজারে অবস্থান নিই। এ কারনে থাকার জন্য কোন খরচ হয়না। আমি সারা দিন গ্রামে গ্রামে বাজারে বাজারে ঘুরে ফুল বিক্রি করি। বাবা তেমন হাটতে পারেনা। তার পরও তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করে বেড়ান। সন্ধার আগেই আমি বাবার নিকট ফিরে আসি। যে টাকা হয় আমরা নিজেরাই জীবিকা নির্বাহ করি। আর যদি বেশি টাকার ফুল বিক্রি হয় তা বাড়িতে থাকা ছোট ভাই আর মায়ের জন্য বিকাশ করে পাঠিয়ে দিই। তিনি আরো জানান, এখানে আর অল্প কিছুদিন থাকবো। বিক্রি কমে গেলে চলে যাব। তবে কোথায় যাবো তা এখনো ঠিক করিনি।


