মাগুরানিউজ.কমঃ
কাঁচা আমের গুণাগুণ পাকা আমের চেয়ে নেহায়েত কম নয়; বরং বেশিই। টক স্বাদের কারণে জিভে জল এনে দেওয়া এই ফল সাহিত্যগুণেও ভরপুর। তাছাড়া বৈশাখী প্রভাবে কাঁচা আমের যোগান ও চাহিদা উভয়ই এখন তুঙ্গে।
উচ্চমাত্রার চিনি, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ এই তিনের আধার কাঁচা আম। সব রকমের চর্মরোগের বিরুদ্ধে উৎকৃষ্ট হাতিয়ার হতে পারে এই ভিটামিন ‘সি’। আবার চুলের যত্নে এর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে যেমন, তেমনি গরমের সময় সর্দিগর্মি থেকেও রক্ষা করতে পারে কাঁচা আমের ভিটামিন ‘সি’।
ছোটদের রাতকানা রোগ এবং বড়দের চোখে ছানি পড়া, চোখ ওঠা, চোখের অভ্যন্তরীণ রক্তচাপ কমে যাওয়া -এ সমস্যাগুলো যে কারণে হয় তার মধ্যে ভিটামিন ‘এ’র অভাব অন্যতম। ভিটামিন ‘এ’ চোখের মাংসপেশি, স্নায়ু, শিরা-উপশিরার পুষ্টি জোগায়। এছাড়া আমের ভিটামিন ‘এ’ গর্ভস্থ শিশুদের জন্যও উপকারী। শিশুর চোখের গঠন মাতৃগর্ভ থেকেই হয়ে যায়। তাই গর্ভবতী মায়েরা নিঃসন্দেহে খেতে পারেন কাঁচা আম।
আমে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন দেহের স্নায়ুগুলোকে করে শক্তিশালী। মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে রাখে সতেজ। ফলে ঘুম আসতে সাহায্য করে।
কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। আঁশ-জাতীয় সবজি, ফল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, মুখের ব্রণ প্রতিরোধ করে। আর তারুণ্য ধরে রাখতেও কাঁচা আম বেশ কাজের। খনিজ লবণের আধিক্য দাঁত, নখ, চুল মজবুত রাখে।
কাঁচা আম রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ায় না, কিন্তু পাকা আম রক্তে দ্রুত চিনির পরিমাণ বাড়ায়। তাই ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও আদর্শ খাবার এটি।
এই গরমে পরিশ্রম বা ব্যায়াম শেষে খেতে পারেন কাঁচা আম। তাতে পটাশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। এই পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর থাকায় উপকার পাওয়া যাবে অম্বল, পেশি সংকোচন ও মানসিক চাপের ফলে তৈরি শারীরিক সমস্যায়। এদিকে প্রচুর পরিমাণে লৌহ সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তস্বল্পতা রোধেও বেশ উপকারী কাঁচা আম।
শেষকালে জানিয়ে রাখা ভালো যে আমের আচারের তুলনায় টাটকা কাঁচা আমই বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ। তাই পাকতে শুরু করার আগেই জিভের ডাকে সাড়া দিন।


