মাগুরানিউজ.কমঃ
এক সপ্তাহ আগে সদর উপজেলার আঠাখাদা এলাকার বিদ্যুতের ট্রান্সফারমারটি বিকল হয়ে যাওয়ায় পানি সেচের অভাবে শতাধিক একর জমির ধান নষ্ট হবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আঠারখাদার জাহাঙ্গীর হোসেন, আইয়ুব হোসেন, সাহেব আলী, আবু বক্কারসহ কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া এলাকাতে বাড়ি ঘরের পাশপাশি শতাধিক একর ধানের ক্ষেত রয়েছে। যার পুরোটাই বৈদ্যুতিক সেচ যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল। গত বৃহস্পতিবার এলাকার উপর দিয়ে যাওয়া সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। বিকল ট্রান্সফরমারটি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে খুলে নিয়ে যায়। কিন্তু এখনো সেটি প্রতিস্থাপন করেনি। যে কারণে জমিতে পানি সেচের সমস্য তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু কৃষকের ধান ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে সেচের অভাবে এসব ক্ষেত ফেটে চৌঁচির। এ ছাড়া ধানের সদ্য গজানো শীষগুলো শুকাতে শুরু করেছে। হেলে পড়ছে ধানের চারা।
কৃষক আবু বক্কার জানান, ধারে কাছে ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র না থাকায় সেচের বিকল্প ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, শুধু ধান ক্ষেত নয় মাঠে থাকা পাট, বিভিন্ন ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সাথে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে সর্বস্তরের মানুষ। দু’একদিনের মধ্যে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন না করলে বড় ধরনের অর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবেন তারা।
এ ব্যাপারে মাগুরা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী বিমল রায় বলেন,‘ সারা জেলায় ১৫০ টি ট্রান্সফরমার আছে। যার বেশিরভাগই জোড়াতালি দিয়ে চলে। এছাড়া কোন ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে সেটি প্রতিস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত ট্রান্সফমার আমাদের নেই। এই অঞ্চলের একমাত্র ট্রান্সফরমার মেরামত কেন্দ্রটি যশোরে। যেখানে জনবলের ব্যাপক সংকট রয়েছে। যে কারণে ট্রান্সফরমার মেরামতে বিলম্ব হয়। বিকল হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমারটি সেখানে পাঠানো হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে সেটি চলে আসলে তাতক্ষণিকভাবে লাগিয়ে দেয়া হবে। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রান্সফরমারের অপ্রতুলতা ও দ্রুত প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থার জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ আমরা কৃষকদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে বলেছি। কিন্তু তারা এখনো এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে স্থানীয় উপ-সহকারিরা ধান রক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে কৃষকদের পরমর্শ দিচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যে বৃষ্টি হয়ে গেলে সংকট অকেটাই কাটিয়ে উঠবে কৃষক’।


