মাগুরানিউজ.কমঃ
রাজবাড়ীতে চালক ছাড়াই যাত্রী নিয়ে উল্টোপথে ট্রেন চলার ঘটনার পেছনে চালকের নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটি।
এ কমিটির প্রধান রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ান লালন আহমেদ সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ কথা জানান।
রাজবাড়ী থেকে ফরিদপুরগামী ৭৮৩ নম্বর আপ ট্রেন রোববার চালক ও গার্ড ছাড়াই উল্টোপথে প্রায় ২৬ কিলোমিটার পথ পার হয়।
ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চালক ইঞ্জিন চালু রেখে চা খেতে নিচে নেমেছিলেন, গার্ডও তখন ট্রেনে ছিলেন না। এ সময় হঠাৎ করেই ট্রেনটি ফরিদপুরের দিকে না গিয়ে উল্টোপথে কুষ্টিয়ার দিকে চলা শুরু করে।
পরে টিকিট কালেক্টর আনোয়ার হোসেন ইঞ্জিন ও বগির মাঝখানের ভ্যাকুয়াম ব্রেকের পাইপ খুলে ট্রেন থামান।
রেলওয়ের পাকশী বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনের চালক মোহাম্মদ আলী ও গার্ড সুভাস চন্দ্র সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। জেলা প্রশাসন, রেলওয়ের পাকশী বিভাগ ও রেল পুলিশ তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
রেল পুলিশের তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার রাজবাড়ীতে পৌঁছে চালক মোহাম্মদ আলী, তার সহকারী চালক ফয়সাল এবং গার্ড সুভাষ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এছাড়া তারা ইঞ্জিনটি পরীক্ষা করে এবং ২৬ কিলোমিটার দূরে ট্রেন থামানোর স্থান ঘুরে আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
দেওয়ান লালন আহমেদ বলেন, চালক মোহাম্মদ আলী জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। তার পরিবারের সদস্যরাও জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত বলে তারা জানতে পেরেছেন।
“জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসির পরদিন এ ঘটনা আসলে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির কোনো চেষ্টা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
রেল পুলিশের ডিআইজি এসএম রুহুল আমিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নাশকতার সন্দেহ তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
“চালক তার কার্যকলাপের যে ব্যাখ্যা এবং যুক্তি দিচ্ছে তা যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে না।”
এ ঘটনায় রেল বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও মামলা হয়নি। মামলা হলে চালক ও গার্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রেল পুলিশের ডিআইজি।
এ ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রধান হিসাবে আছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি জেনারেল) আসাদুজ্জামান কবির। আর রেলওয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা এএইচএম আকরামুল হক।


