ঈদের খাবার কততুকু?

images (3)ঈদ সমাগত। আর ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদের এ খুশি এ আনন্দকে প্রাণভরে উপভোগ করার জন্য যত পার খাও_ এ ধরনের একটি মানসিকতা কাজ করে ঈদের দিন সবার মধ্যেই। অনেকেই ভেবে থাকেন, যেহেতু বছরে একটাই তো মাত্র ঈদের দিন, তাই এই একটা দিনে বেশি বেশি খেলে এমন কী ক্ষতি হবে? কিন্তু একটা কথা মনে রাখা উচিত এ দিনটিই আপনাকে অনেক দিন ভোগাতে পারে যদি আপনি খাবার গ্রহণে সতর্ক না হন। ঈদের আনন্দটাই অন্যরকম। মিষ্টি, গোশত, বিভিন্ন ধরনের পানীয় প্রভৃতি খাবারে এ দিনটাকে যেন স্মরণীয় করে রাখা।

ঈদের দিন সকালবেলা সব বাড়িতেই মিষ্টি খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। অতিথি এলে প্রথমেই মিষ্টি দেওয়া হয়। নিজেরাও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার মুখে দিয়ে ঈদের দিনটি শুরু করেন। সত্যিকার অর্থে ঈদে মিষ্টি খাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও এটা যতদূর সম্ভব সীমিত রাখাই ভালো। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, ওজন বেশি কিংবা ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে তারা ঈদের দিন মিষ্টি খাবেন না। ঈদের দিন অনেক খাবারে বাড়তি চিনি মেশানো হয়। এটা উচিত নয়। বাড়তি চিনি ক্যালরি বাড়ায়। স্বাস্থ্যের জন্য এটা মঙ্গলজনক নয়। তবে মিষ্টির বিকল্প হিসেবে দই খাওয়া যেতে পারে।

চর্বি নিয়ে ভাবুন : প্রত্যেক মানুষের রক্তে নির্দিষ্ট মাত্রায় চর্বি থাকে। এ চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য তা মারাত্দক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রক্তে অতিরিক্ত মাত্রার চর্বি করোনারি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তে কিংবা শরীরের চর্বি কমানোর সহজ উপায় হলো গরু বা খাসির গোশত কম খাওয়া। ঈদের দিন সব বাড়িতেই কম-বেশি গোশত রান্না হয়। গরু, খাসি কিংবা মুরগি একটা না একটা গোশত থাকবেই। তবে বেশিরভাগ বাড়িতে গরু ও খাসির গোশত প্রাধান্য পায়। গরু ও খাসির গোশতে থাকে প্রচুর চর্বি। বয়স্ক লোকের জন্য এ চর্বি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চর্বিতে থাকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল। এটা হৃৎপিণ্ডের চিরচেনা শত্রু। যারা করোনারি হৃদরোগে ভুগছেন, ঈদের চর্বিসমৃদ্ধ গোশত তাদের বিপদ ডেকে আনে। যারা হৃদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তাদের এ সময়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা মারাত্দক আকারে বেড়ে যায়। তাই ঈদে গোশত রান্না করতে হবে স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে। গোশত রান্নার আগে গোশত থেকে চর্বি কেটে বাদ দিয়ে কিংবা গোশতকে আগুনে কিছুটা ঝলসে নিয়ে তারপর রান্না করলে অবাঞ্ছিত চর্বি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। গোশতে ভালোমতো হলুদ মেখে ফ্রিজে রাখলেও চর্বির পরিমাণ কমবে।

সালাদের ওপর গুরুত্ব দিন : ঈদের দিন সালাদ খাওয়া নিয়ে কার্পণ্য করবেন না, বরং অন্য খাবার কমিয়ে দিয়ে পেটটা ভরে তোলার চেষ্টা করুন স্রেফ সালাদ দিয়ে। সালাদ হিসেবে গাজর, টমেটো, শসা ও লেটুস অনন্য। মূলজাতীয় সবজির মধ্যে গাজরে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন। লেটুসেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন। টমেটোতে রয়েছে লাইপোকেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সালাদের সঙ্গে সয়া যোগ করুন।

গতানুগতিকতা পরিহার করুন : বাঙালিমাত্রই ভোজনরসিক। যেকোনো উপলক্ষে বিশাল ভোজন এক সামাজিক রীতি। তবে ঈদে ভোজনের প্রচলিত ধারাটি পরিহার করুন। পোলাও কিংবা বিরিয়ানির পরিবর্তে খিচুড়ি পরিবেশন করুন। খিচুড়ি অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। ঈদের দিন (পানিসহ) খিচুড়ি একটু বেমানান দেখালেও একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে নিজের ও পরিবারের উপকারটাই করবেন। খিচুড়ি আদর্শ খাবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: