আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঈদ কার্ডের ব্যবহার

মাগুরানিউজ.কম: 

images (4)কয়েক বছর আগেও ঈদের  নিমন্ত্রণ বা শুভেচ্ছা বিনিময়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ঈদ কার্ড। বাহারী রঙ আকর্ষণীয় ডিজাইন আর মন ভোলানো ভাষা সমৃদ্ধ এ কার্ডের প্রচলন এখন প্রায় নেই বললে চলে। কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ডিজাইনে কৃত্রিম আন্তরিকতার বাক্য বা দৃশ্য সম্বলিত কার্ড গুলো দেখলেই মনে হয় এ গুলো নিতান্তই দায় সারার জন্য। অথচ সুন্দর ভাষা সমৃদ্ধ আকর্ষণীয় কার্ড অনেক দোকানে পাওয়া যায়। এমনকি অর্ডার দিয়েও তৈরি করাতে পারেন শুভেচ্ছা বিনিময়কারীরা। কিন্তু আমাদের প্রত্যাহিক জীবন যাত্রা এত যান্ত্রিক হয়ে উঠছে যে সেখানে আবেগ অনুভূতি দিন দিন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। 

মাগুরা শহরের বিভিন্ন গিফট শপ ও কার্ডের দোকান গুলো থেকে জানা গেছে ঈদ দরজায় কড়া নাড়লেও এ সকল দোকানে কার্ডের তেমন কোন ক্রেতা নেই। যদিও অনেকে পুরানো প্রথা ধরে রাখতে এক দু’টি কার্ড কিনছেন তা সংখ্যায় অনেক কম। যার দরুন গিফটশপ ও কার্ড দোকানীদের ব্যবসা এবার তেমন ভাল নয়। মাগুরার দোকান গুলোতে সর্বনিম্ন তিন টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা মূল্যের ঈদ কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। মন পাখি, খুশির ধারা, বন্ধন, রশ্মি, মিউজিক, গোলাপসহ বাহারী নামে নামকরণ করা হলেও এ ঈদ কার্ড গুলো ক্রেতাদের মন আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

কার্ড বিক্রি সম্পর্কে দোকানীরা জানান কয়েক বছর আগে ঈদ উপলক্ষে সকল বয়সী ক্রেতাদের কার্ডের প্রতি আলাদা ধরনের ঝোঁক ছিল। যে কারণে  দিনে ৫শ’ থেকে হাজার পিস কার্ড বিক্রি হত কিন্তু এখন দিনে ৫০ পিসও হচ্ছে না। বন্ধু আত্মীয় কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে ঈদ শুভেচ্ছা ও নিমন্ত্রণ কার্ড আদান প্রদান ছিল ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু অদৃশ্য কোন শক্তি বলে মধুর সে কার্ড বিনিময় দৃশ্য এখন স্মৃতিতে পরিণত হতে চলেছে উল্লেখ করে তারা বিজ্ঞানের ডিজিটাল পদ্ধতিকে এ অবস্থার জন্য দায়ি করেন। 

রাজু নামে এক ক্রেতা বলেন আধুনিক যুগে কার্ডের ব্যবহার অনেকের কাছে পুরাতন স্টাইল মনে হলেও এটি বিনিময় পারস্পারিক বন্ধন সুদৃঢ় করে ফোন মেসেজ, মেইল কিংবা ফেসবুক স্ট্যাটাচ চাইলে বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা যায় না। কিন্তু কার্ডটি সযত্নে তুলে রাখা সম্ভব। এ জন্য তিনি এখনও আপনজনদের কার্ড উপহার দেন। তার মতে রঙ বাহারি এ কার্ডের উপর নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটিয়ে মনের না বলা কথাগুলো প্রকাশ করা অনেক সহজ যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব নয়। 

সুলতানা নামে আরেক ক্রেতা জানান, ঈদ কার্ডের ব্যবহার কমেছে সত্যি, কিন্তু এর আবেদন কমেনি। আমরা সকলে অল্প সময়ের মধ্যে কাজ সারতে চাই। সে জন্য মিনিটের মধ্যে ফোন আলাপ বা মেসেজ বিনিময় করে এখন ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে। এতে অপর প্রান্তের মানুষটিও সহজে তার প্রতি উত্তর দিতে পারছে। সে জন্য বলা চলে কার্ড আর আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বার্তা আদান প্রদান দুটি পদ্ধতির রয়েছে সমান গুরুত্ব। তবে এটা সত্যি নিজ হাতে কাগজ কেটে বাহারী রঙ দিয়ে মনের ভাষা লিখে আপনজনকে দেওয়ার মধ্যে রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিকতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: