মাগুরানিউজ.কমঃ
প্রায় চলাচলের অযোগ্য মহম্মদপুর-মাগুরা সড়কের সংস্কার কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। ২৬ মার্চ আউনাড়া থেকে তোলা ছবি।
মূল সড়ক ছেড়ে দুই ধারের মাটি মাড়িয়ে যাতায়াতের দৃশ্য চোখে পড়লো। ভ্যান, ইজিবাইক, নছিমন ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে সড়কের পার্শ্ব দিয়েই। পুরো সড়কের অধিকাংশেই একই দৃশ্য চোখে পড়লো। পিচ, পাথর ও খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে গোটা সড়ক। সড়ক যাত্রায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ দুরাবস্থা। বেহাল ওই সড়ক দিয়ে নিত্যঝুঁকিতে অগণিত মানুষ যাতায়াত করছেন। বিকল্প কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই জনসাধারণকে ওই ভগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গোটা সড়কে রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এ শোচনীয় দশা মহম্মদপুর-মাগুরা সড়কে।

মহম্মদপুর উপজেলাবাসীর জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র সড়ক এটি। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে এ দৈন্যদশা দীর্ঘদিনের। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়ত উপজেলার সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ ওই সড়ক পথে জেলা শহরে যাতায়াত করেন। মহম্মদপুরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতরে চাকরিজীবীরাও জেলা শহর থেকে ওই ভগ্নদশার সড়ক দিয়ে কর্মস্থলে আসেন।
সরেজমিনে দেখাগেছে, মহম্মদপুর উপজেলা সদরের কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের সামনে থেকে বিনোদপুর ব্রীজ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয় ও মারাত্বক বেহাল।
কোথাও কোথাও দেখাগেছে- প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে ভ্যান, ইজিবাইক, নছিমন ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। ফলে সড়কের দুই পাশের কাঁচা জায়গা বিকল্প সড়কে পরিণত হয়েছে।
সড়কের অধিকাংশ স্থানের পিচ, পাথর ও খোয়া বহূ আগেই উঠে গেছে। উঠে যাওয়া পাথর ছড়িয়ে ছিটিেিয় রয়েছে গোটা সড়কে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট পাথর কুচি সড়কটিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হরহামেশায় ঘটছে ছোট-বড়ো দুর্ঘটনা।
সড়কের উরুড়া এলাকা থেকে বেহাল দশার দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করার প্রাক্কালে মহম্মদপুর থেকে ছেড়ে আসা মাগুরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সামনে এসে থামলো। বাস মালিক লিটন শেখ জানান, ভাই ভালো করে লেহে দেবেন, যাতে তাড়াতাড়ি রাস্তাডার কাজ হয়। এ রাস্তায় আর গাড়ি চালানু যায়না। তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, রাস্তার যে দশা তাতে জাহিতি জাহিতি কবে নাট-বল্টু খুলে কাত অয়ে পড়তি অবি।
খড়ের বিচালি বোঝাই দিয়ে মহম্মদপুরগামী নছিমন চালক বিল্লাল মোল্যা জানান, ভাইরে এই রাস্তায় চলাচল করে জান-পরাণ থাহেনা।
ঝুঁকিপূর্ণ সড়কযাত্রা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গর্ভবর্তী, আহত ও মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করলে; দুর্বোগের আর অন্ত:থাকেনা। খানা-খন্দকে ভরা বেহাল ওই সড়ক দিয়েই সেবক রোগীকে মাগুরা নেয়ার সময় পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। সারাপথ ঝাকুনিতে রোগীর অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে পড়ে।


