মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুরে দুর্গোৎসবে সেভেন আপ খাওয়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাত ১১ টার দিকে উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর মাঝিপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হেলাল বিশ্বাসসহ (৩২) কয়েকজন আহত হয়। আহত হেলাল বিশ্বাস বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন কাননের সমর্থক।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর মাঝিপাড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সেভেন আপ খাওয়ার প্রতিযোগিতা হয়। মহেশপুর গ্রামের একটি ছেলে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার খাওয়া শেষ হয়নি বলে অন্য প্রতিযোগির সমর্থকরা কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়। এ সময় ছেলেটির সাথে কানন ও তার লোকজনের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জেরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাত ২টার দিকে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি তাদের প্রতিমা বিসর্জন দেয়।
এ বিষয়ে আনন্দনগর সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি বাবুল বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক অরজিৎ বিশ্বাস বলেন, রাতে মন্দির প্রাঙ্গনে সবাই আনন্দ করছিল। এ সময় রাস্তায় মারামারি হয়। কে বা কারা মারামারি করেছে তা আমরা দেখিনি।
আহত হেলাল বিশ্বাস বলেন, আমি নাকোল ছিলাম। হঠাৎ আমার কাছে ফোন আসে। আমি সেখানে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে মিনুর নেতৃত্বে ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা করে।
দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মহেশপুরের বিএনপি নেতা মিনুর নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিনু ও ইলিয়াসের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শিশির কুমার শিকদার জানান, বিজয়া দশমীর নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দিলে এ ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকতো না। আগামীতে কোনো মন্দির কমিটিকে প্রতিমা রেখে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সেভেন আপ খাওয়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কানন ওই ছেলেকে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং হেলাল নামের ছেলেটি মিনুর মা-বাবাকে নিয়ে গালিগালাজ করলে মহেশপুর গ্রামের মিনুর লোকজনের সাথে কাননের লোকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে।
শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ জাব্বারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তারপরেও সেখানে পুলিশ রাখা হয়েছে।

