মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুরে বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভ। ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও পায়নি এর পূর্নতা। ২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে উপজেলা শহরের কুমার নদের তীরে স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপিত হয়। ২০১৫ সালে স্মৃতিস্তম্ভের পূনরায় সংস্কার করা হয়। উপজেলা শহরে প্রবেশ করতেই চোঁখে পড়বে এই স্মৃতিস্তম্ভটি। কিন্তু অযত্ন-অবহেলায় রয়েছে বছরের পর বছর। ১৬ ডিসেম্বর, ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ ব্যতিত খোলা হয় না গেট। বছর সাতেক আগে স্মৃতিস্তম্ভটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে নেই কোন কার্যক্রম। স্মৃতি স্মৃতিস্তস্তের সৌন্দর্য বর্ধনে ১২ টি বাতি লাগানো হয়। প্রথম দিকে বাতি জ্বললেও এখন আর জ্বলে না। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও এখন বছরের পর বছর সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ১২ টি বাতির এখন সবগুলোই অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধের মাঝে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার এবং স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করার কেউ নেই। রাতে স্মৃতিস্তম্ভের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে লাগানো হয়েছে ১২ টি বাতি। এর মধ্যে বাতির পিলার থাকলেও মাথায় কোন বাতি নেই। এখন আর রাতে জ্বলে না কোন বাতি।

স্হানীয়রা বলেন, প্রথম দিকে এই বাতিগুলো জ্বললেও এখন আর কোন বাতি জ্বলে না। হয়তো বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার ভয়ে, কিছুদিন যেতে না যেতেই বিদ্যুৎ সংযোগ করা হয় বিচ্ছিন্ন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ইকরাম আলী বিশ্বাস বলেন, প্রথম দিকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। পরে সরকারী উদ্যোগে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভটি। বছরের পর বছর অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে স্মৃতিস্তম্ভটি। বার বার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোন কাজ হয়নি। মাঝে মাঝে নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা-উল-জান্নাহ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাইটগুলো লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সর্বদা সুনজর রয়েছে।


