মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর-নাকোল গুরুত্বপূর্ন সড়কে সরকারি রাস্তার দু’পাশে গাছ রেখে জমজমাট স’ মিল ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে স‘মিলে চিরাই করতে আনা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সরকারি রাস্তার উপর রেখে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে স’মিলের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। স’মিলের মালিক ও ব্যবসায়ীগণ প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গাছ এনে রাস্তার দু’পাশে ফেলে জমাট (স্তুপ) করে রাখছে। ফলে বিভিন্ন সময় ঘটছে মারাত্বক দূর্ঘটনা। এছাড়া ট্রাক, ট্রলি ও ভ্যান স’মিলের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা থামিয়ে গাছ উঠা নামা করায় রাস্তার দু’পাশে যানবাহন আটকে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সহ সাধারণ পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

শ্রীপুর হতে নাকোল সড়কের পাশে ৬ টি স’মিল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাজলি বাজারে হান্নান মোল্লার হান্নান স’মিল, আমতৈল বাজারে কাসেম মোল্লার কাসেম স’মিল, সব্দালপুর বাজারে সিরাজুল ইসলামের আমিনউদ্দীন স’মিল, রাধানগর বাজারে মালেক বিশ্বাসের মালেক স’মিল ও নাকোল বাজারে সিফাতুল ইসলামের প্যাসিফিক টিম্বার এন্ড স’মিল নামে ২ টি স’মিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীপুর হতে নাকোল ব্যস্ততম সড়কের প্রায় প্রতিটি বাজার সংলগ্ন স’মিল গড়ে উঠেছে। শ্রীপুর থেকে নাকোল যেতে প্রথমেই চোখে পড়ে কাজলি বাজারের পাশে গড়ে উঠা হান্নান স’মিল। সড়কের সরকারি জায়গার উপর গাছ রেখে দীর্ঘদিন জমজমাট ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া কাজলি বাজার থেকে প্রায় আমতৈল বাজার, আমতৈল বাজার থেকে তারাউজিয়াল, সব্দালপুর বাজারে প্রবেশ মুখে, রাধানগর ও নাকোল বাজারে প্রবেশের সময় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

এ বিষয়ে হান্নান স’মিলের মালিক হান্নান মোল্লা বলেন, কেউ এ বিষয়ে কোনদিন বলেনি। গাছের লগ এভাবে রাখলে সমস্যা হয়। কেউ বললে সরিয়ে নিবো।তবে মিল এরিয়ার বাহিরে আমরা রাখিনা, ব্যবসায়ীরা রাখে। তবে এ দায়ভার আমাদের না।

আমিনউদ্দীন স’মিলের মালিক সিরাজুল ইসলাম ও প্যাসিফিক টিম্বার এন্ড স’মিলের মালিক সিফাতুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে গাছের গুড়ি এভাবে রাখা ঠিক না আমরাও বুঝি। তবে এগুলো আমরা রাখিনা, ব্যবসায়ীরা রাখে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা গাছগুলো রাস্তা থেকে দূরেই রেখেছি। তবে যতদুর রাখার প্রয়োজন জায়গার অভাবে পারছিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, সরকারি জায়গায় উপর গাছ রেখে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করার কোন সুযোগ নেই। যদি এমনই হয় অবশ্যয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


