আজ দুপুরে মাগুরা শহরে দেখা মিলল বৃহৎ এক হাতি। দোকানদার ও যানবাহনের ড্রাইভার ও পথচারিদের নিকট গিয়ে সালাম দিয়ে শুঁড় পেতে দিচ্ছে। কেউ ভয়ে দেয়, কেউ আনন্দে আবার কেউ অনেকটা কৌতুহলী হয়ে টাকা দিচ্ছে। হাতি শুঁড় উচু করে মাহুতকে সেই টাকা দেয়।
টাকা দিতে দেরি হলে মাহুতের ইশারায় হাতি বিকট আওয়াজ করে । এতে লোকজন ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে টাকা দিয়ে দেয়।
হাতি দিয়ে টাকা তোলাকে শহরবাসীর কেউ বলছেন চাঁদাবাজী, কেউ তোলাবাজী, আবার কেউ বলছেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু পৃথিবীর বৃহৎ প্রাণী হিসেবে হাতির জন্য চাঁদাবাজী, তোলাবাজী এবং ভিক্ষাবৃত্তি কোনটাই মানানসই নয়।
দেশের আইনে চাঁদাবাজী একটি দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু পৃথিবীর এই বৃহৎ প্রাণীটি নিজেও জানে না যে সে কি করছে। মাহুতের নির্দেশে টাকা তোলে আবার মাহুতের হাতে দিয়ে দেয়। কেউ বলছে এটা হাতির চাঁদাবাজী আবার কেউ বলছে এটা মাহুতের চাঁদাবাজী।
এক সময় ছিলো গ্রামে-গঞ্জে সাকার্স পাটি এলে মাহুদরা হাতি নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাতির খাবারের জন্য কলাগাছ সংগ্রহ করতো। তখন শহর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনাই ছিলো দেশীয় বা জংলী জাতের কলাগাছের ঝোঁপ। হাতি নিয়ে বাড়ি গেলে মালিকরা আনন্দ সহকারেই কলাগাছ দিয়ে দিতো। হাতি নিজেই শুঁড় দিয়ে কলাগাছ ভেঙ্গে পিঠে করে কিংবা শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতো।
এখন মানুষের বাড়ির আঙ্গিনাও নেই কলাগাছও নেই। তারা এখন হাতি নিয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে এবং ক্ষুদে যানবাহনের সামনে দাঁড়িয়ে টাকা উঠায় এমনটাই হাতির মাহুতের দাবি।


