আজ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- শ্রীপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ
- শ্রীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- শ্রীপুরে সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
- শ্রীপুরে গৃহবধূ লিমা খাতুন হত্যা, ঘাতক স্বামী গ্রেফতার
- শ্রীপুরে বিনামূল্যে পাট বীজ বিতরণ
- মাগুরা নিউজের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট রাজীব কুমার মিত্র জয়ের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- শ্রীপুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার আয়োজন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
- শ্রীপুরে বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু, আহত ১ নারী
মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
তমাল আছে লোকগীতি, বৈষ্ণব কবিতা ও সংস্কৃত কাব্যেও। এটি একটি দীর্ঘজীবী চিরসবুজ গাছ। মাঝারি আকৃতির গাছটির কাণ্ড খাটো, অমসৃণ, আঁকাবাঁকা। বসন্তে ফুটে ছোট সাদা ফুল। ফল দেখতে ছোট গাবের মতো গোল, হলুদ রঙের। এর আদি নিবাস মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের উষ্ণ অঞ্চলে। তমালের উদ্ভিদজাত নাম (Diospyros cordifolia). তমাল নিয়ে এত কথা থাকলেও গাছটি সচরাচ দেখা যায় না। তমাল গাছটি খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। অনেক দিন লাগে বড় হতে। গাছটি দুর্লভ, তবে একেবারে হারিয়ে যায়নি।
এমনই একটি তমাল গাছ ছিল মাগুরার শালিখা উপজেলাধীন বড় থৈপাড়া ঠাকুর বাড়িতে। সোমবার সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়েছে তিনশো বছরের স্মৃতিবাহী এই তমাল গাছ। গাছটি ভেঙে পড়ায় অনেকটা নির্বাক হয়ে পড়েছেন গাছটির মালিক সুনীল মজুমদার। ঐতিহ্যবাহী গাছটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তিনি। বললেন তমাল গাছের সাথে জড়িয়ে আছে আছে মা-বাবা, ঠাকুরদাসহ অনেক আপন জনের স্মৃতি। সরকারিভাবে গাছটি সংরক্ষণ করলে শুধু স্মৃতি নয় দুর্লভ একটি গাছের সংরক্ষণ হতো যা একটি স্পটে পরিণত হতে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশি রমা বিশ্বাস বলেন, অর্ধশত বছরধরে গাছটির নিচে শিবের পূজা করছি। ছোটবেলা থেকে ঠাকুরদাদাদের মুখে শুনে আসছি তমাল গাছের নানা গুনের কথা, নানা গল্প। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে গাছটি, ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে ছিড়ে গেছে তার শিকড়গুলো। যা এখন লাকড়িতে পরিণত করা ছাড়া বিকল্প কোনো কিছুর ভাবার আর অবকাশ নাই।
স্থানীয়রা বলছেন গাছটির বয়স আনুমানিক প্রায় দুইশ বছরের উপরে। সিত্রাং আঘাতে শিকড় কেটে যাওয়া এবং শিকড়ের মাটি ধুয়ে যাওয়া গাছটির সবথেকে বড় সমস্যা। অবহেলা আর অযত্নে কোন রকমে গাছটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেিল গাছটির মালিক সুনীল মজুমদার।
শালিখা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ সুকান্ত মজুমদার জানান, দুর্লভ গাছ হিসেবে এটি সংরক্ষণ করা জরুরী ছিল। গাছটি সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান তিনি। শত শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত তমাল গাছটি উপড়ে পড়ায় অনেকটা শোকাহত পড়েছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই ঐতিহ্যের এই গাছটি বিনষ্ট হওয়ায় কয়েকশো বছেরের স্মৃতি চিহ্ন বিলীন হয়ে গেলো বলে আস্ফালন করেন অনেকে।

