আজ শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- শ্রীপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত
- শ্রীপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত
- শ্রীপুরে বৈঠাখালীতে শতবর্ষী কবিগানের আসর: মুগ্ধ হাজারো দর্শক
- শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের তিন সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
- শ্রীপুরে বিজয়া দশমীর রাতে মদপানে দুই জনের মৃত্যু
- শ্রীপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
- শ্রীপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ১ জনের মৃত্যু! আহত-৬
- শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও'র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়
- শ্রীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- নদীর বুকেই কেটেছে জীবনের ছয়টি দশক, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও থামেনি রনজিতের বৈঠা
মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
তমাল আছে লোকগীতি, বৈষ্ণব কবিতা ও সংস্কৃত কাব্যেও। এটি একটি দীর্ঘজীবী চিরসবুজ গাছ। মাঝারি আকৃতির গাছটির কাণ্ড খাটো, অমসৃণ, আঁকাবাঁকা। বসন্তে ফুটে ছোট সাদা ফুল। ফল দেখতে ছোট গাবের মতো গোল, হলুদ রঙের। এর আদি নিবাস মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের উষ্ণ অঞ্চলে। তমালের উদ্ভিদজাত নাম (Diospyros cordifolia). তমাল নিয়ে এত কথা থাকলেও গাছটি সচরাচ দেখা যায় না। তমাল গাছটি খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। অনেক দিন লাগে বড় হতে। গাছটি দুর্লভ, তবে একেবারে হারিয়ে যায়নি।
এমনই একটি তমাল গাছ ছিল মাগুরার শালিখা উপজেলাধীন বড় থৈপাড়া ঠাকুর বাড়িতে। সোমবার সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে ভেঙে পড়েছে তিনশো বছরের স্মৃতিবাহী এই তমাল গাছ। গাছটি ভেঙে পড়ায় অনেকটা নির্বাক হয়ে পড়েছেন গাছটির মালিক সুনীল মজুমদার। ঐতিহ্যবাহী গাছটির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তিনি। বললেন তমাল গাছের সাথে জড়িয়ে আছে আছে মা-বাবা, ঠাকুরদাসহ অনেক আপন জনের স্মৃতি। সরকারিভাবে গাছটি সংরক্ষণ করলে শুধু স্মৃতি নয় দুর্লভ একটি গাছের সংরক্ষণ হতো যা একটি স্পটে পরিণত হতে বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেশি রমা বিশ্বাস বলেন, অর্ধশত বছরধরে গাছটির নিচে শিবের পূজা করছি। ছোটবেলা থেকে ঠাকুরদাদাদের মুখে শুনে আসছি তমাল গাছের নানা গুনের কথা, নানা গল্প। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঘুর্ণিঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে গাছটি, ঝড়ের সাথে যুদ্ধ করে ছিড়ে গেছে তার শিকড়গুলো। যা এখন লাকড়িতে পরিণত করা ছাড়া বিকল্প কোনো কিছুর ভাবার আর অবকাশ নাই।
স্থানীয়রা বলছেন গাছটির বয়স আনুমানিক প্রায় দুইশ বছরের উপরে। সিত্রাং আঘাতে শিকড় কেটে যাওয়া এবং শিকড়ের মাটি ধুয়ে যাওয়া গাছটির সবথেকে বড় সমস্যা। অবহেলা আর অযত্নে কোন রকমে গাছটি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেিল গাছটির মালিক সুনীল মজুমদার।
শালিখা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ সুকান্ত মজুমদার জানান, দুর্লভ গাছ হিসেবে এটি সংরক্ষণ করা জরুরী ছিল। গাছটি সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রশাসনকে অবহিত করেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান তিনি। শত শত বছরের স্মৃতি বিজড়িত তমাল গাছটি উপড়ে পড়ায় অনেকটা শোকাহত পড়েছেন এলাকাবাসী। শুধু তাই ঐতিহ্যের এই গাছটি বিনষ্ট হওয়ায় কয়েকশো বছেরের স্মৃতি চিহ্ন বিলীন হয়ে গেলো বলে আস্ফালন করেন অনেকে।

