মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা-যশোর সড়কের সীমাখালী ব্রিজটি ধসে পড়ার ১০ দিনেও মেরামত হয়নি। এতে করে এ সড়ক দিয়ে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের চারটি জেলা যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট এবং বেনাপোল বন্দরের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবী করেছে দুটি ট্রাক অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ব্রিজে ওঠায় সেটি ভেঙ্গে পড়ে।
এ ঘটনায় ওই দুইটি ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একই মামলায় সে সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভ্যানটি এক হাজার পাঁচশ একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা ছিল, যেগুলোর ওজন আনুমানিক ৭৫ কেজি। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন কাভার্ডভ্যানটিতে তেমন ওজনের কোনো পণ্য ছিল না।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০০ ফুট দৈর্ঘের সীমাখালি ব্রিজটিতে কত ওজনের পণ্য নিয়ে যানবাহন চলবে, একসঙ্গে কয়টি যান চলতে পারবে সে সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা ছিল না। এগুলো দেখভালের জন্যও সংশ্লিষ্ট কেউ ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে বেইলি ব্রীজটি নির্মাণের পর এত বছরেও উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি।তারা ভেঙ্গে যাবার ঘটনার জন্য তারা ব্রিজের তদারককারি প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দায়ী করেন
কিন্তু নিজেদের দায় এড়াতে ‘উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর মত একটি মামলা দিয়ে পার পেতে চাইছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মাগুরা সড়ক উপ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি দুটো পাথর বোঝাই ট্রাকের ওজন প্রায় ১০০ টনের মত ছিলো। তবে যে কাভার্ডভ্যান ছিলো সেটি অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ছিলো না। কিন্তু একই সময়ে সেটি ব্রিজ অতিক্রম করছিলো। তাই অন্য দুটি ট্রাকের সাথে এটিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন মাত্র ৭৫ কেজি পণ্য বহনকারী কাভার্ডভ্যানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন। সেখানে যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুন নবী তরফদারের সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান।


