মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
শালিখার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব মূখর পরিবেশে চলছে শালিখা উপজেলার বুনাগাতী ইউপিতে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনী প্রচার -প্রচারনা। এই ইউপি থেকে ২জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দিতা করছেন । বুনাগাতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার দলীয় মনোনয়ন (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ বক্তিয়ার উদ্দীন লস্কার এবং তার প্রতিদন্দিতা করছেন আ.লীগ নেতা মোঃ ইমদাদুল মোল্যা আনারস প্রতীকে। দলীয় শূঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে মোঃ ইমদাদুল মোল্যাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এই ইউপিতে বিএনপিসহ অন্যান্য দল গুলো নির্বাচনে অংশগ্রহন করেননি।ফলে কঠিন চ্যালেন্জের মুখে পড়েছেন সরকার দলীয় প্রার্থী বক্তিয়ার উদ্দীন। এমন উপরিস্থিতে বুনাগাতী ইউপি নির্বাচনে ট্রামকার্ড হতে পারে বিএনপি জামায়াত সমার্থক ভোটাররা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে বুনাগাতী ইউনিয়ন আগাগোড়া আওয়ামী লীগের ঘাটি। এই ইউপিতে মোট ভোটারেরর মধ্যে ৭০ শতাংশ (আনুমানিক) আওয়ামীলীগের।তার মাঝে ৫০-৫৫ শতাংশ ভোট সনাতন ধর্মাবলীর,তারা সবাই আওয়ামী লীগ সমার্থক। ২২-২৫ শতাংশ বিএনপি জামায়াত সমার্থিত ভোটার।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, এবার ইউপি নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও নৌকার প্রার্থী বক্তিয়ার উদ্দীন।
আ.লীগের একাংশ কেউ কেউ সরাসরি কেউবা গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুল মোল্যার পক্ষে কাজ করছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুনাগাতী ইউপিতে ২ জনই প্রার্থী আ.লীগের। এখানে আওয়ামী লীগের ঘাটি হলেও আওয়ামী সমার্থিত ভোটাররা ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এবার ইউপি নির্বাচন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
বুনাগাতী বাজারে চায়ের দোকানদার (নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নয়)বলেন, আমি বিএনপি করি এবার দলীয় কোন প্রার্থী নেই।ভোট দিবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন,আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিব।
বাজারের মুদিদোকানী বলেন, আমারা আওয়ালীগ করি,দুজনই আমাদের দলের লোক তবে এবার সরাসরি কারোর নির্বাচন করছি না।তবে নির্বাচনে ২জন প্রার্থীই সমানে সমান।
আরও খোজ নিয়ে জানা গেছে ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজ্জাক মোল্যা, সাবেক সভাপতির ভাই দাউদ হোসেনসহ আ.লীগের একাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুলের নির্বাচন করছেন।স্থানীয় ভোটাররা আরও বলেন দুইজনই আ.লীগ করে এখানে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারনে বিএনপি -জামায়াত সমার্থিত ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সাবেক সহ-সভাপতি রাজ্জাক মোল্যা বলেন,হ্যা আমি বিদ্রোহী প্রার্থীর কাজ করছি, কারণ এই নৌকা সেই নৌকা নয়। স্থানীয় নির্বাচনে দল বিষয় নয়।দুজন প্রার্থীই আ.লীগের।
উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে)বলেন, বিএনপি এবার দলীয়ভাবে নির্বাচনে আসেননি,আর বুনাগাতী ইউপিতে দুইজন প্রার্থীই আ.লীগের। আপনারা কাকে ভোট দিবেন জানতে চাইলে বলেন,এখানে বিএনপি-জামায়াতের সমার্থিত ভোটার ৩০-৩৫ শত। আমাদের দলের শতভাগ ভোট বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুল মোল্যা পাবেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ ইমদাদুল মোল্যা বলেন,আ.লীগের একাংশের নেতা-কর্মিরা আমার সাথে এবং অন্যান্য দলের সিংহভাগ ভোট আমি পাবো।
নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম না হলে আমিই জয়ী হবো।
ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক সন্জয় কুন্ডু বলেন, বুনাগাতী ইউপি আ.লীগের ঘাটি। আমাদের নৌকার প্রার্থী পর পর দুইবাবের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, এখানে জয় আমাদেরই হবে।আমাদের দলে কোন বিভক্তি নেই,দুই এক জন নেতা ছাড়া সবাই নৌকার পক্ষে কাজ করছে। ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি উত্তম সরকার নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় তাকে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন,ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহনমুলক হবে।
বুনাগাতী ইউনিয়নে পুরুষ ৬৩৮০,মহিলা ৬৩৪৩,তৃতীয় লিঙ্গ ১জন মোট ১২৭২৪ জন ভোটার ৯ টি কেন্দ্রে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোটদান করবেন
ছবিঃ বামে বক্তিয়ার উদ্দীন, ডানে ইমদাদুল মোল্যা।
Like this:
Like Loading...