মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩১ শয্যা নিয়ে হাসপাতালের যাত্রা শুরু উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চিকিৎসা সেবার এক মাত্র ভরসা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি। নতুন ভবন নির্মিত হয় ২০১৬ সালে পরবর্তিতে ৫০ শয্যা চালু হয় ২০১৯ সালে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবায় দুরবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা নিতে আশা রোগিরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট শালিখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। যার কারনে প্রতিদিন বহির্বিভাগে কয়েকশত রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
শালিখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫টি কনসালটেন্ট পদে কোন চিকিৎসক কর্মরত নাই। সার্জারী এবং এ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে কোন অপারেশন হয় না। ৩য় শ্রেনীর কর্মচারির ৫৫টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৩৩ জন ৪র্থ শ্রেনীর ১৯টি পদের মধ্যে ১৩ টি পদ শুন্য রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ২৪ জন স্বাস্থ্য সহকারীর মধ্যে শুন্য রয়েছে ১১ টি পদ যার কারনে ব্যাহত হচ্ছে ইপিআই এর কাজ। ২০০২ সালে প্রাপ্ত এক্সে-রে মেশিনটি অকেজো থাকায় এক্সে-রে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগিরা। ফলে দরিদ্রপীড়িত অঞ্চলের রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম জানান, ডাক্তার সংকটের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এই করোনা কালিন সময়ে স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে রোগিদের আসানুরুপ সেবা প্রদানে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া করোনা টিকা প্রদান অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছি, এপর্যন্ত এ উপজেলায় মোট ১ম ডোজ ২৮ হাজার ৫শত ৩৯ জনকে ও ২য় ডোজ ১৪ হাজার ২শত ৯১ জনকে প্রদান করা হয়েছে। জন সংখ্যার অনুপাতে টিকা প্রদানে মাগুরা জেলার ৪ উপজেলর মধ্যে শালিখা এখনও প্রথম স্থানে। তিনি আরও বলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের একটি ঔষুধের জন্যও বাইরে যেতে হবে না। ডাক্তার সংকট নিরসন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজিত হলে আমরা এলাকার সাধারণ মানুষের উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হব।
Like this:
Like Loading...