মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
শালিখা উপজেলার আলোচিত সাগরিকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আসামী গ্রেফতার এবং ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই ঝিনাইদহ।
সাগরিকা হত্যা মামলার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্যা (৪২) ২২/০৮/২০২১ ঘটিকার সময় তার নিজ গ্রাম খলশী,বাঘারপাড়া হতে গ্রেফতার করা হয়।
উলেক্ষ্য গত ইং ২৯/০১/২০২০ দুপুর ০২.৪৫ (আনুমানিক) সময় সাগরিকার লাশ মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দেশমুখপাড়া গ্রামাস্থ চিত্রা নদীতে বস্তা বন্দী গলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সংক্রান্তে নিহতের স্বামী বাদী হয়ে মাগুরা জেলার শালিখা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শালিথা থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-৩১/০১/২০২০ খ্রিঃ এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটি শালিখা থানা পুলিশ তদন্তকালীন অবস্থায় ২৯/০৭/২০২০ ইং তদন্তভার পিবিআই এর উপর ন্যাস্ত করেন এবং পরবর্তীতে তদন্তের জন্য পিবিআই ঝিনাইদহকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ গোলাম রসুল মামলাটি তদন্ত করেন।
এটি ১ বছর ৬ মাস আগের হত্যা ঘটনা। আসামী পূর্বে ধলগা রাস্তার বাজারে মোটর সাইকেল পার্টস এর দোকানদারী করতো। সেই সময় সাগরিকার সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে সাগরিকার সাথে তার পূর্বের স্বামী মিরাজের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে শহিদুল নিজ বাড়ীতে তাদের ডেকে উপস্থিত লোকজনের সাক্ষাতে স্থানীয় মাওলানার মাধ্যমে তালাক প্রদান করে । এরপর থেকে শহিদুল সাগরিকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং একপর্যায়ে ২য় স্ত্রী হিসাবে বিবাহ করে। এক বছর সংসার করার পর সাগরিকা শহিদুল কে তালাক প্রদান করে। এর অনুমান ৩ মাস পর কাজীর কাছে গেলে বলে তালাক হয় নাই এবং তারা ঘর সংসার করতে থাকে। পরে আবার সাগরিকা শহিদুল ইসলামকে তালাক প্রদান করে আজিজুরকে বিবাহ করে। সাগরিকা আজিজুরকে তালাক দিয়ে আবার গ্রেফতারকৃত আসামী শহিদুলকে বিবাহ করে। এর ১ বছর পর শহিদুল মোটর সাইকেল মামলায় জেল হাজতে গেলে সাগরিকা আসামী শহিদুলকে তালাক দিয়ে এই মামলার বাদী জাহাঙ্গীর শেখকে নিয়ে বোম্বে চলে যায়। পরে বোম্বে থেকে ফিরে এলে শহিদুল এর সাথে সাগরিকার মোবাইলে কথা বার্তা হতো। সাগরিকা সর্বশেষ শহিদুলকে ছেড়ে জাহাঙ্গীরকে বিবাহ করার কারণে এবং বারবার বিবাহ ও তালাক প্রদান করায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠে। অপরদিকে স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউ,পি সদস্য মোছাঃ আলেয়া বেগম এর সাথে স্থানীয় মফিজুলের জমি জায়গা নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। আলেয়া বেগম এই শহিদুলকে ডেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে যে, সাগরিকা কে হত্যা করে মফিজুলের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে। এই ষড়যন্ত্র হিসাবে আসামী শহিদুল সাগরিকার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে এবং ঘটনার তিন দিন পূর্বে সাগরিকা মিস কল দেয়। তখন আসামী শহিদুল কলদিলে সাগরিকা বলে আমি একবারে তোমার কাছে চলে আসবো। তখন শহিদুল বলে তোকে নিয়ে আমার আর ছিনিমিনি খেলার সময় নাই। এরপর শহিদুল স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর আলেয়ার সাথে উক্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করে সাগরিকাকে ডেকে নিয়ে আয় প্লান করে মারতে হবে। সেই প্লান অনুযায়ী শহিদুল (আসামী) ১১/০১/২০২০ তারিখ ফোন করে ভিকটিম সাগরিকাকে নড়াইল টার্মিনালে আসতে বলে। আসামী শহিদুল ও অন্যান্য আসামীদের পূর্র্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়া মটর সাইকেল নিয়ে আসামী গোলাম রসুলকে নড়াইল টার্মিনালে যেতে বলে। সকল আসামীদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে গোলাম রসুল সাগরিকাকে তার দেড় বছরের ছেলে সহ মাইজপাড়া বাজারে মোটর সাইকেল যোগে নিয়ে আসে। এদিকে আলেয়ার মোটর সাইকেলে আসামী শহিদুল চালক হিসাবে আলেয়া ও তার স্বামী সোহরাব মোল্যাকে নিয়ে সন্ধ্যার দিকে চিত্রা নদীর পাড়ে পোড়াডাঙ্গির ঘাটে আলেয়া ও সোহরাবকে নামিয়ে রাখে। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলেয়া মেম্বার শিশু বাচ্চাটিকে সাগরিকার নিকট হতে কোলে নিয়ে নেয়। আসামী শহিদুল নদীর পাড়ে থাকা জালের ছেড়া অংশ দিয়া ভিকটিম সাগরিকার পা বেঁধে ফেলে।
গোলাম রসুল ভিকটিমের ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়া গিট বেধে ফেলে। সাগরিকার শ্বাসরোধে মৃত্যু হলে শহিদুল পাশ্ববর্তী একটি বাড়ী থেকে ঘরের সামনে রাখা পাপোষ হিসাবে ব্যবহৃত একটি পুরাতন বস্তা নিয়া লাশ বস্তায় ভোরে ফেলে আসামী শহিদুল আলেয়া ও শিশু বাচ্চাসহ মটর সাইকেল যোগে রওনা দেয়। আসামী গোলাম রসুল ও সোহরাব বস্তা ভর্তি লাশটি নদীতে ফেলে দেয়। শহিদুল ও আলেয়া শিশু বাচ্চাটাকে নিয়ে মাইজপাড়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের রাস্তার পাশে বিছালীর গাদার নিকট শিশুটিকে রেখে যে যার মত বাড়ী চলে যায়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এই তথ্য জানান
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদশর্ক (পিবিআই ঝিনাইদহ জেলা) মোঃ গোলাম রসুল বলেন আলোচিত সাগরিকা হত্যা মামলাটি ছিল ক্লু-লেস মামলা। সাগরিকা সাবেক স্বামী শহিদুলের সাথে বার বার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ এবং বিবাহ বিচ্ছেদের সূত্র ধরে আমরা আলোচিত সাগরিকা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।

সাগরিকার লাশ উদ্ধারকার সময়ের ছবি।
Like this:
Like Loading...