মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার বাজারে নতুন চাল উঠেছে। নবান্নে চালের মূল্য মোটেও কমেনি। বরং ক্রমাগত বাড়ছেই। অথচ কৃষক পাচ্ছে না ধানের উপযুক্ত মূল্য। চাল ছাড়াও রমজানকে সামনে রেখে বাজারে বাড়ছে ছোলা, শুকনো মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। বাজার নিয়ন্ত্রণ ঢিলেঢালা হওয়ায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে উঠেছে।
বাজারে নতুন চাল উঠলে মূল্য কমবে ভোক্তাদের এমন ধারণা পাল্টে গেছে। নতুন বাসমতি ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৫০টাকা, ব্রি ২৮ প্রসেসিং ৪৭টাকা, ব্রি ২৮ ৪৫টাকা, প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেড়েছে মোটা চালের মূল্য। প্রতিকেজি মোটা চাল ৪২টাকা থেকে ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাগুরার বাজারে রবিবার খোঁজ খবর নিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
এ অঞ্চলের একজন বাজার কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিহার রীতিমতো অস্বাভাবিক। বিশেষ করে ধান ওঠা মৌসুমে চালের মূল্য কমে যায়। কিন্তু এবার তার ব্যতয় ঘটেছে। দেশের মোট চাহিদার ৬৫ভাগ সবজি উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টির এলাকা যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। সবজির বাজারেও সিন্ডিকেট ব্যবসা জোরদার হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বাজারে। তারপরেও মূল্য বেড়েই চলেছে।
খাদ্য অধিদপ্তর, বাজার কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল সুত্র জানায়, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সরকারের নির্দেশনা আছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয় কম। মাঝেমধ্যেই জেলা বাজার কমিটির বৈঠক হয়। দাবী করা হচ্ছে মাঠেও নামেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে ঢিলেঢালা অবস্থা দেখে কোনভাবেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না ভোক্তা সাধারণ। একেক বাজারে একেক মূল্য হাকছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা দোষারোপ করছেন পাইকারী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের।
শহরাঞ্চলে যেনতেন, গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে দ্রব্যমূল্যের ব্যাপারে খোঁজ নেয়ারও কেউ নেই। শহরাঞ্চলের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার ও মুদি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য আরো বেশী। মাছের মূল্যের ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়। সকালে এক দাম আর বিকালে আরেক। কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তার ফর্মুলাও খুঁজে বের করা তাগিদ নেই।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামাফিক মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে ভোক্তাসাধারণকে দিশেহারা করছে। সীমিত ও স্বল্প আয়ের পরিবারের মাসিক খরচের বাজেটে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিযন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সিন্ডিকেট মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা কোন নিয়মনীতির ধার ধারছে না।


