মাগুরায় জীবনের ঝুকি নিয়ে চলছে স্কুল, অভিভাবকরা শংকিত!!!

মাগুরানিউজ.কমঃ

বিশেষ প্রতিবেদক –

মাগুরা শহরের ভায়নার মোড়ে আছিয়া খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই চলছে ১৭০ শিশুর পাঠদান। যেকোনও সময় ভবনটি ভেঙে পড়তে পারে এমন আশংকা থাকার পরেও প্রতিনিয়ত চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আতঙ্কের মাঝেই শিশুদের ক্লাস করাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। নতুন ভবন তৈরি বা মেরামতের জন্য কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৪ সালে সরকারের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের আওতায় এই বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি তৈরি করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়তে শুরু করে। এ অবস্থায় সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। কয়েক বছর আগে ছাদের আরসিসি পিলারের ক্ষয়ে যাওয়া জায়গাগুলো সামান্য প্লাস্টারের মাধ্যমে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাতেও কোনও লাভ হয়নি।

দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। অনেক জায়গাতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে থাকে। বৈদ্যুতিক ফ্যানের ভেতরে পানি ঢুকে ইতিমধ্যে আটটি ফ্যান পুড়ে গেছে। এ কারণে ফ্যান ছাড়াই শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার শুরু থেকেই স্কুল মাঠটি পানি ও কাঁদায় পরিপূর্ণ থাকে। বেশি বৃষ্টি হলে পানি মাঠ ছেড়ে ক্লাসরুমে ও লাইব্রেরি রুমে ঢুকে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী রানী বিশ্বাস বলেন, ভবনের চারটি রুমের সব ক’টিতেই ছাদের পলেস্তরা ও ইটের খোয়া খসে পড়েছে। যেকোনও সময় পুরো ভবনটি ধসে ১৭০ জন ছাত্রছাত্রী ও ছয়জন শিক্ষকের প্রাণহানি ঘটতে পারে

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম জানান, ইতিমধ্যে বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়েই এখানে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই স্কুলসহ অতি জরুরি ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য ১০টি স্কুলের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির মাগুরা সদর উপজেলা প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেওয়া অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনকে ঝুঁকিমুক্ত না করে ক্লাসে ছাত্রদের লেখাপড়া করানো মোটেই ঠিক হচ্ছে না। আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২২
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: