মাগুরানিউজ.কমঃ

এ্যাড. রাজীব মিত্র জয় –
বৈচিত্রময় আশাব্যাঞ্জক জীবনমুখী রায় এক রায় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাগুরার মূখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যুবককে কারাগারের অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দুরে রেখে সংশোধন হওয়ার পথ করে দিয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রে একজন সুনাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট সহিংসতার একটি মামলার রায়ে ইব্রাহিম হোসেন নামে এইচএসসি পড়ুয়া ওই যুবককে বই পড়া, গাছ লাগানোসহ সদাচরণের জন্য সহায়ক বিশেষ কিছু করমে সংশ্লিষ্ট থাকার শর্তে প্রবেশন মঞ্জুর করেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) বিকালে মাগুরার মূখ্য বিচারিক আদালতের হাকিম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান প্রদত্ত আলোচিত এই রায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পরিবর্তে সংশোধনের জন্য ইব্রাহিমকে দন্ডবিধির ৩২৪ ধারার পরিবর্তে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ১ বছর সময়কালের জন্য ৭টি শর্তে প্রবেশন মঞ্জুর করেন।
মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ইব্রাহিম এমন অপরাধ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। ক্ষণিকের উত্তেজনায় করা এই অপরাধে ইব্রাহিমকে শাস্তি ভোগের জন্য কারাগারে পাঠালে সংশোধন হওয়ার পরিবর্তে অভ্যাসগত অপরাধীদের সঙ্গে মিশে পুরো অপরাধী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাঁকে এই অপরাধে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠালে হয়তো কৃত অপরাধের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া হবে, কিন্তু একজন সম্ভাবনাময় তরুণের স্বপ্ন ও জীবন ধ্বংস হবে। দণ্ডের উদ্দেশ্য প্রতিশোধ নয়; বরং সংশোধন হওয়ার পথ করে দিয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রে একজন সুনাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া।
প্রবেশনকালীন সময়ে বিচারক ইব্রাহিমকে যে ৭টি শর্ত পূরণের শর্ত দিয়েছেন সেগুলো হলো- প্রবেশনকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত আসামি কোনরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন না বা একই ধরণের অপরাধ আর করবেন না, শান্তি বজায় রাখবেন এবং ভাল ব্যবহার করবেন, আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন, কোনরূপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না, কোন খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে আর মিশবেন না, প্রবেশনকালীন সময়ে আসামি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর ২টি বই জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলো ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা একাত্তরের চিঠিসহ ইসলাম ও নৈতিকতার ওপর আরো ২টি বই পড়বেন এবং আগুনের পরশমনি সিনেমা দেখবেন, প্রবেশনকালীন সময় আসামি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসাবে ২টি বনজ ও ৩টি ফলজ গাছ লাগাবেন।
কোন শর্ত ভঙ্গ করলে বা তার আচরণ সন্তোষজনক না হলে তার প্রবেশন আদেশ বাতিল করা হবে এবং অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডাদেশ ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন।
এদিকে এ রায় গণমাধ্যমে আজ ব্যাপক প্রশংসিত ও আলোচিত হয়েছে। মাগুরা নিউজ এই রায়কে জীবনমুখী রায় বলে আখ্যায়িত করেছে। দেশের প্রথম সারির সব সংবাদমাধ্যম আলোচিত এ রায় নিয়ে আজ প্রতিবেদন ছেপেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও এ রায় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান আলোচ্য বিষয়ও আজ এটি। মানবিক বিচার ব্যবস্থার আশাব্যাঞ্জক নজীর হয়ে থাকবে এই রায় এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের। সরকার নিজেদের সুনাম বাড়াতে একে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
লেখক- আইনজীবী, সম্পাদক মাগুরা নিউজ।

