মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক –
প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে একটি কল্যাণকর মহামানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, বিজ্ঞ জেলা দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান।
লিগ্যাল এইড প্রচারণার চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১২ জানুয়ারী) সদর উপজেলার ঌনং চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত কর্মশালায় এ আহবান জানান তিনি।
কর্মশালার প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে শেখ মফিজুর রহমান বলেন, ‘’দেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বিনামূল্যে আইনি সেবা সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ। লিগ্যাল এইড মানে শুধু আইনি সহায়তা নয়, এটি একটি অধিকার। প্রতিটি মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একটি সুস্থতর, সুন্দরতর ও সমৃদ্ধতর বাংলাদেশ নির্মানে বিচার বিভাগ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। তারই একটি প্রয়াস দেশের দরিদ্র মানুষদের আইনগত সহায়তা দেয়া। এর মধ্য দিয়ে বদলে যাবে বাংলাদেশ। পরিণত হবে একটি কল্যাণকর মহামানবিক রাষ্ট্রে।” এসময় তিনি লক্ষ পূরনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দ বাগচি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাক্তার মুন্সী মো. ছাদুল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সংগ্রাম, পাবলিক প্রসিকিউটর কামাল হোসেন প্রমুখ।
‘লিগ্যাল এইড বিষয়ে সাধারণ আলোচনা ও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার জনাব অনুশ্রী রায়।
কর্মশালায় উপস্থিতির অধিকাংশই ছিলেন নারী। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়কে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে ও কথা বলতে পেরে স্থানীয় জনগণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, যেকোনো উদ্যোগকে সফল করতে জনগনের অংশগ্রহণ অতিব জরুরী। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌছে দিতে প্রয়োজন সেবাকর্মী। আর সে কর্মীরা যদি হন প্রশিক্ষিত ও স্বউদ্যোগী তাহলে সে উদ্যোগের সফলতাও নিশ্চিত। মাগুরা লিগ্যাল এইডের ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটছে। তৃনমূল পর্যায়ে ‘লিগ্যাল এইড’র সেবা পৌছে দিতে জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্থানীয় মানুষদের সাথে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চলছে একের পর এক বিশেষায়িত কর্মশালা। যেখানে উপস্থিত প্রতিটি নাগরিককে লিগ্যাল এইডের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়ে স্বউদ্যোগী স্বেচ্ছাকর্মী হতে অনুপ্রানীত করে তোলা হচ্ছে।ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সেবাকর্মী। বিষয়টি এখন মাগুরার গণমানুষের সামাজিক আন্দোলনেও পরিনত হয়েছে। আর সেকারনে সফলতাও মিলছে আশাতিত।

