মাগুরানিউজ.কম:
কাঁদছে নগর, কাঁদছে নগরবাসী। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে কাঁদছেন মিডিয়াপাড়ার মানুষরাও। কান্নার রোল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। ওই হাসিমাখা মুখ মাটিচাপা দেয়া যায়! কী করে ভুলবে এমন ভালোবাসার মানুষকে! তবুও যে বিদায় দিতে হয়। এ যে অমোঘ বিধান। এ বিধান লঙ্ঘন করার সাধ্য কার? ভালোবাসার অশ্রুভেজা মাটিতেই চাপা দিতে হলো। সবাইকে কাঁদিয়ে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।
শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে শারাফুল হকের কবরে দাফন সম্পন্ন হয় আনিসুল হকের। বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে মরহুমের জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মন্ত্রী, এমপিসহ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেয়রের মরদেহ বহনকারী বিমানটি সিলেটে এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। এরপর দুপুর ১টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় ফ্লাইটটি। পরে সেখান থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে মরদেহ বনানীতে তার নিজ বাসায় নেয়া হয়।
মরদেহ দেখতে এবং শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের আনিসুল হকের বাড়িতে যান। এরপর বেলা ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদেনের জন্য সেখানে খানিক সময় রাখা হয়। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় আনিসুল হককে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দ্য ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি মারা যান আনিসুল হক। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
সরাসরি রাজনীতি না করেও এক বর্ণাঢ্য জীবনের মঞ্চে অবস্থান করেছিলেন আনিসুল হক। স্বপ্নজয়ের সিঁড়িতে ভর করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নগরবাসীর নজর কেড়েছিলেন তিনি।
১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক। শৈশব কেটেছে ফেনীর সোনাগাজীর নানাবাড়িতে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। স্ত্রী রুবানা হক, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। শরিফুল হক ও রওশন আরা বেগম দম্পতির বড় সন্তান আনিসুল হক। তার ছোট ভাই আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বর্তমানে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের মেয়র নির্বাচনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
মাত্র দুই বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নগরের রূপ বদলে দিতে পেরেছিলেন খানিকটা। তার জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ আর স্বপ্নের মধ্য দিয়েই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন নগরবাসীর মধ্যে।


