ডাঃ রাহুল মিত্র-
করোনায় আক্রান্তদের ফুসফুস দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, ফলে অক্সিজেন নেওয়ার গতিও কমে যাচ্ছে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কত, তা মাপলেই বোঝা যাচ্ছে ফুসফুসের জোর। কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফুসফুস, তা বলে দিবে অক্সিমিটার। আর এই অক্সিজেনের মাত্রাই নির্ধারণ করে রোগীর শারীরিক অবস্থা।
রক্তে অক্সিজেন ঠিক কতটা আছে, তা মাপা যায়। সেই মাপকেই চিকিৎসার পরিভাষায় বলে শরীরের ‘অক্সিজেন স্যাচুরেশন’ বা অক্সিজেনের মাত্রা। শ্বাস টানার পরে ফুসফুস সেই বাতাস থেকে অক্সিজেন পাঠায় রক্তে। যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো শরীরে। ফুসফুস দুর্বল হলে, শ্বাস টানার ক্ষমতা কমে যায়। তখন রক্তে কম পরিমাণ অক্সিজেন পাঠাতে পারে। ফলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গে কম অক্সিজেন পৌঁছোয়। এর থেকেই শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। কারও মাথা ঘুরতে থাকে, বমি ভাব হয়। অনেকে জ্ঞানও হারান যদি অক্সিজেনের মাত্রা বেশি কমে যায়। ফলে অক্সিজেন ঠিক পরিমাণে থাকা প্রয়োজন।
অক্সিজেনের মাত্রা সাধারণত ১০০ থাকে। খুব কমলেও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে তা ৯৭-এর নীচে নামার কথা নয়। কোভিড আক্রান্তদের কখনও কখনও অল্প ওঠা-নামা করে। তবে ৯৪-এর নীচে নেমে গেলে তা চিন্তার কারন। অনেকের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা তার থেকেও নীচে নেমে যাচ্ছে।
৯৪-এর নীচে নেমে গেলেই অক্সিজেন দিতে হবে আলাদা ভাবে। বহু করোনা রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট টের পাচ্ছেন না তাঁরা। অথচ অক্সিমিটার দেখাচ্ছে ৯৪-এর নীচে নেমে গিয়েছে মাত্রা। এমন পরিস্থিতি বেশ সঙ্কটজনক। ফলে অক্সিমিটারে প্রতিদিন মাপতে হবে অক্সিজেনের মাত্রা। অক্সিমিটারে ৯০ পর্যন্ত অনেক রোগীকেই স্থিতিশীল দেখা যায়, কিন্তু এতটা নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। কারন, অক্সিজেনের মাত্রা পড়ার গতি বেড়ে গেলে তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে ৯৪-এর আশেপাশে গেলেই কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন দিতে হবে রোগীকে।
বাতাস থেকে অক্সিজেন বের করে ফুসফুস তা রক্তে পাঠায়। করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে অধিকাংশের ফুসফুসকে দুর্বল করে দিচ্ছে ভাইরাস। কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন দিলে ওই কষ্টটা করতে হয় না ফুসফুসকে। ফলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন খানিকটা সহজে পৌছায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে।

