মাগুরানিউজ.কমঃ

বিশেষ প্রতিবেদক-
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে সবার মতো মাগুরাবাসিও চরম শংকিত। জানা অজানা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে জনপদ। সংক্রমন প্রতিরোধে চলছে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা। তবুও কাটছে না শংকা, বরং ক্রমশই বাড়ছে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতার জন্য বিদেশ ফেরত চিহ্নিত করতে বাড়ির সামনে লাল পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যেসব বাড়িতে লাল পতাকা উড়ছে, সেসব বাড়ি আতঙ্কে এড়িয়ে চলছেন সাধারন মানুষ। যা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞজনেরা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, তারা গ্রামে-গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশ ফেরতদের চিহ্নিত করে তাদের নাম ঠিকানা তালিকাভূক্ত করছেন এবং তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছেন। কোন বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ডঃ আশরাফুল আলম বলেছেন, যেকোনো মূল্যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হবে।
মাগুরায় বিদেশফেরত ২২৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি মার্চে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ৪০০ জন নারী পুরুষ মাগুরায় ফিরেছে।
সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য মতে, মাগুরায় এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরতদের সংখ্যা ২৫০ জন। যার মধ্যে ২৫ জন ইতোমধ্যে ১৫ দিন পার করে শঙ্কামুক্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। বাকি হোম কোয়ারেন্টাইনে ২২৫ জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা করোনা প্রতিরোধে জনসচেনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। চলতি মার্চ মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দুই হাজার ৪০০ জন বিদেশ ফেরতদের তালিকা আমাদের কাছে এসেছে। যা তাৎক্ষণিকভাবে সব বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণসহ যথাযথভাবে কাজ করছে। এছাড়া অনেকেই স্বপ্রণোদিতভাবে বিদেশফেরতদের বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন। এর আলোকে আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করছি।’

