মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুরে পুলিশ ও জুয়াড়িদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আট নর্তকী ও ১৯ জুয়াড়িকে আটকর করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৮টি মোটরসাইকেল। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে উপজেলার কালিশংকরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
পুলিশের উপর জুয়াড়ীরা আক্রমণ করলে ৩ পুলিশ আহত হয়। এ সময় জুয়াড়ীদের ব্যবহৃত ৩৮টি মোটর সাইকেল ও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জুয়ার আসরসহ আস্তানাটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ ।
পুলিশ জুয়া, মাদক, অশ্লিলতা ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: তরীকুল ইসলাম গণমাধ্যম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাগুরার ডিবি পুলিশ, এসএএফ এবং স্থানীয় পুলিশের ৬০ সদস্যদের দল কালিশংকরপুরের জুয়া ও নগ্ন নৃত্যের আসর চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আয়োজক চক্রের লোকজন পুলিশ উপর হামলা করে। এতে মাগুরা ডিবি পুলিশের এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, কনস্টেবল মাসুদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান আহত হন। তারা মাগুরা ও মহম্মদপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আট নর্তকী ও ১৯ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৮টি চোরাই মোটরসাইকেল।
মাগুরা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, পুলিশ আস্তানার অন্যতম আয়োজক কালিশংকরপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে নাজমুল ও একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে নান্নু মিয়াসহ ১৯ পুরুষ জুয়াড়ী ও অশ্লিল নাচের সাথে জড়িত ৮ নারীকে আটক করে। তবে মুলহোতা কবির হোসেন পালিয়ে গেছে। আটক নারীরা টাকার বিনিময়ে এখানে অশ্লীল নৃত্যে ও অসামাজিক কাজকর্মে অংশ নিতেন বলে পুলিশ জানায়।
এ সময় পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসী নৃত্যমঞ্চ, চেয়ার, তাবু, দোকানপাটসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সালাউদ্দিন জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের আসর বসানো ও তাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক ২৭ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরও ৫০জনের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।


