মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার তল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এসএম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের সীমানাজুড়ে অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা গড়ে ওঠায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল ও কলেজের ৫ শতাধিক ছাত্রছাত্রী।
মহম্মদপুর-মাগুরা সড়ক সংলগ্ন তল্লাবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ইটভাটায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বিদ্যালয় মাঠ। মাঠের পাশে এলোমেলোভাবে ভাটার জ্বালানি রাখায় কমে গেছে মাঠের পরিধি, ফলে ক্লাসের অবসরে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
এমন পরিবেশ দেখে সবারই মনে হবে, নিয়ম-শৃঙ্খলা বা আইন-কানুনের বালাই এ এলাকায় নেই।
স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ইটভাটার কারণে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। শিশুশ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এ বছর মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১৮। ধুলা এবং ধোঁয়ার কারণে অনেক সময় শিশুশ্রেণির ছেলেমেয়েরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেই এসএম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজ। এখানে সব মিলিয়ে রয়েছে ২৭৫ ছাত্রছাত্রী। চিমনির কালো ধোঁয়া ও শব্দদূষণে এখানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এসএম টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার বিশ্বাস গণমাধ্যমে বলেন, ইটভাটার ধুলা-বালু থেকে রক্ষা পেতে আমরা সীমানা প্রাচীরের কাজ শুরু করেছি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবিরুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, এ বিষয়ে লিখিতভাবে বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করেছি, তবে কোনো সদুত্তর পাইনি।
ভাটা মালিক মো. মিজানুর রহমান শিকদার গণমাধ্যমে বলেন, তিনি জমি লিজ নিয়ে ইটভাটা করেছেন, স্কুলের অসুবিধার কথা ভেবে তিনি আগামী বছর ওই জমিতে ইটভাটা করবেন না।
মহম্মদপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি গণমাধ্যমে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। শিগগিরই এলাকাটি পরিদর্শন করে স্কুল ও কলেজের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।


