মাগুরানিউজ.কম:
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার কাশিপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, রুইজানী, কৃষ্ণনগর, গোপালনগর এলাকায় মধুমতি নদীর ভাঙন সমস্যার কোনো সুরাহা নেই।
কাশিপুর থেকে গোপালনগর পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় মধুমতি নদীর পাড় ভেঙেই চলেছে। গোপালনগর, কাশিপুর, কৃষ্ণনগর আগেই ভেঙেছে। এখন ভাঙন চলছে বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর এলাকায়। এ এলাকায় ভাঙনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি তো বসুরধুলজুড়ী -ভোলানাথপুর গ্রামের প্রায় তিনশ বছরের পুরানো কালিমন্দির ও বট গাছ নদী গর্ভে চলে গেছে।
একসময় এসব গ্রামে বসতি ছিলো প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি পরিবার। এখন সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে হাতে গোনা কয়েক ঘরে। এসব গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা চাষের জমি চলে গেছে নদীবক্ষে। কোনো কোনো পরিবারের তো দুইতিনটা করে বসতভিটা নদীবক্ষে বিলীন হয়েছে।
এই ভাঙনের ইতিহাস প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের। হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বর্ধিষ্ণু চাষিরা এখন অনেকেই অন্যের জমিতে মজুরি খাটেন। হাজার হাজার পরিবার সব হারিয়ে চলে গেছে অন্যত্র। কিন্তু এখনো ভাঙনরোধে তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি সরকার বা প্রশাসন। এ বিষয়ে আপাতত আশার কথা শোনাতে পারেননি কেউই।
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বাবু তারাপদ চৌধুরী বলেন, এই অঞ্চলে ভাঙনের মাত্রা খুব বেশি। বিশেষ করে ধুলজুড়ী-ভোলানাথপুর গ্রামের পরিস্থিতি বেশ সংকটজনক। আমি দুইবার বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছি। আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। মায়ার টানে আমি এখনো একা গ্রামে রয়েছি। এবারের ভাঙন দেখে মনে হচ্ছে এই মায়াও ত্যাগ করতে হবে।’
ভোলানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ডাঃ অসীম রায় বলেন, মধুমতির ভাঙনে প্রায় ৪০বিঘার উপরে জমি ও তিনটা বসতভিটা হারিয়েছি আগেই। প্রাণটুকু সম্বল করে এখন যে বাড়িতে আছি সেটাও ঝুঁকির মধ্যে। এখানেই বা কতদিন থাকতে পারব কে জানে। যেভাবে পাড় ভাঙছে তাতে এই গ্রাম খুব তাড়াতাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে।’
মধুমতির ভাঙনে গেছে চাষের জমি, বসতবাড়ি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী মন্দির, মসজিদ সবকিছু। বিস্তীর্ন অঞ্চল জুড়ে পাড় ভাঙার ভয়ঙ্কর দৃশ্য। যখন তখন খসে পড়ছে মাটি।

