মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
গ্রামীন সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন আতঙ্কিত জনপদ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউপির কালুকান্দি ও উরুড়া গ্রাম। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং ৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। গ্রামবাসীদের ইটপাটকেলের আঘাতে ২ দারোগা ও ২ জন কনস্টেবল আহত হয়েছে। প্রায় তিনঘন্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৭ জন কমবেশি আহত হয়েছে। ভাংচুর লুটপাটের শিকার হয়েছ অন্তত ১০টি বাড়ি এবং একটি ইট ভাটা।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকালে কালুকান্দি গ্রামের মোড়ে চায়ের দোকানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বাহাজ উদ্দিনের ছেলে তারিকুল এবং পাশের উরুড়া গ্রামের অপর আওয়ামীলীগ নেতা তৈয়বুর রহমানের ছেলে ঝন্টু একই সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। এমন সময় ঝন্টু বিদেশে যাওয়ার জন্যে পাসপোর্ট করতে দিয়েছে শুনে তরিকুল তাকে ‘কালা মানুষ বিদেশ যাবে’ বলে উপহাস করলে উভয়ের মধ্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে উভয় আওয়ামীলীগ নেতার নেতৃত্বে দুই গ্রামের লোকজন গ্রামীণ দাঙ্গায় নেমে পড়ে।
খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু এরই মধ্যে উভয় পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় পুলিশসহ ২১ জন আহত হয়। আহত গ্রামবাসিদের মধ্যে ছন্টু শিকদার(৩৮), খসরু শিকদার(৩৫), মজনু শিকদার(২৫), জুয়েল(১৪), মঞ্জু মোল্যা(৪৪), জহুর বিশ্বাষ(২৮), ইকরামুল মন্ডল(২২), হাফিজুর খান(৩৫), আজিজুল(২০), মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া আহত পুলিশের এসআই হাফিজ, এসআই আজম এবং কনস্টেবল ওলিয়ার ও আশানুরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে চলা দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলায় অন্তত ১০টি বাড়িঘর ভাংচুর এবং নূর আলম নামে এক ব্যক্তির ইট ভাটায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মহম্মদপুর থানার ওসি মো: রবিউল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

