মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার মধুখালী গ্রামের আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির সুদের ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে ওই এলাকার শতাধিক মানুষ। চড়া সুদের টাকা দিতে না পেরে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে।
আলমগীরের সুদের অবৈধ কারবারের প্রতিবাদে সোমবার বিকালে এলাকার রাস্তায় মানবন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মাগুরা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ওই এলাকার কাটিগ্রামের পিয়ারী খাতুনের অভিযোগ, আলমের কাছ থেকে তিনি ২ হাজার ৫০০ টাকা নেন। তার বিপরীতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সুদে-আসলে আলম এখন ৫ হাজার টাকা পাওনা হিসাবে দাবি করছেন। যা না দেওয়ায় কয়েকদিন আগে আলম ও তার লোকজন তাকে ধরে নিয়ে আলমের নিজ এলাকার মিলঘরে আটকে মারধর করে।
মধুখালী গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী মালেকা বেগম অভিযোগ – তার স্বামী আলমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। প্রতি সপ্তাহে তাকে টাকা না দিলে আলম ও তার লোকজন অশ্লীল গালিগালাজ ও মারপিট করে। আলমের ভয়ে তার স্বামী শুকুর আলী গত ১মাস ধরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
কাটিগ্রাম এর বাসিন্দা গ্রামীণ কবিরাজ শরিফুল ইসলামের অভিযোগ – তার ছেলের চিকিৎসার জন্য আলমের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু জমিজমা বিক্রিকরে আলমকে দুই বছরে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আরো টাকার জন্য আলম তার লোকজন দিয়ে তার ও তার পরিবারের উপর হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
একই গ্রামের মুন্সী জহুরুল হক জানান, জরুরী পরিবারিক প্রয়োজনে তিনি আলমের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু সুদে-আসলে ২ লাখ টাকা ও ১৪ শতক জমি দেবার পর আলম তার কাছে আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করছে। এ অবস্থায় তিনি দেনার দায়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা আরো জানান, মানুষের বিপদ-আপদের সুযোগ নিয়ে সে সহজেই যে কাউকে সুদের ফাঁদে ফেলে। প্রথমে অসহায় ব্যক্তিকে সে সুদের কথা না জানিয়ে ধার হিসাবে টাকা দেয়। কিন্তু পরের মাসেই তার ওপর সুদের চাপ দেওয়া শুরু করে। তার লোকজন টাকা আদায় না হলে ধরে নিয়ে আলমের মিলঘরে আটকে মারধর করে।
এলাকাবাসী জানায়, আলমগীরের টাকায় প্রতি মাসে ৪০ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। মাত্র ১ শত টাকা ঋণ নিয়ে ৩০ দিনে শোধ না দিলে পরের মাসেই তা বেড়ে গিয়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়ায়। পরবর্তী মাসে ১৪০ টাকার ওপর ৪০ ভাগ সুদ বসিয়ে চক্রবৃদ্ধি হারে তা ব্যাপক অংকে দাড়ায়, যা শোধ করতে না পারলে আলম তার ক্যাডারদের দিয়ে অপমানসহ নানা অত্যাচার করে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, এই ক্যাডারদের ভয়েই এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলেনি। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। এখন অত্যাচারের শিকারের সংখ্যা অনেক হয়ে যাওয়ায় তারা সাহস করে মাঠে নেমেছেন।
সুদের কারবারের মাধ্যমে মধুখালি গ্রামের দিনমজুর কৃষক রাহেন উদ্দিনের ছেলে আলম মোল্যা অল্প দিনেই বাড়ি, মোটরসাইকেল, সারের দোকান, রাইস মিলসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত আলম মোল্যা সুদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সাধারণ মানুষকে বিপদের সময় সাহায্য করি মাত্র। কোন সুদের ব্যবসা করি না। আমার রাইস মিল থেকে চাল, সারের দোকান থেকে সার বাকি নিয়ে অনেকেই দেনা হয়েছেন। সেই পাওনা টাকা চাওয়ার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র চলছে।
এ ব্যাপারে মাগুরার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলমকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। নিরীহ মানুষের এ ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের বিষয়ে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে এলাকাবাসী।


