মাগুরানিউজ.কমঃ
ঈদের মাত্র দুইদিন বাকী, আতর গোলাপ মাখামাখি…। আতর মাখা বিলাসিতা নয়… আতর মাখা বাবুগিরি নয়। মাগুরাতে ঈদ এলেই মাইকে কানে বাঁজে এই নির্দিষ্ট বক্তব্যটি।
ঈদের মাত্র দুইদিন বাকী থাকলেও বানিজ্য তেমন ভালো নয়। ‘শবে কদরের এ দিনে গত বছরও ১০ হাজার টাকার ওপরে আয় করেছিলাম। এ বছর আয় মাত্র ৫ হাজার টাকা। মনে হয় এবার ঈদে আয়ের টার্গেট পূরণ হবে না।’
বুধবার বিকেলে এভাবেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন মাগুরার আতর ও তসবিহ ব্যবসায়ী রিপন হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বেচাকেনা কমে গেছে। শবে কদরেও ভাল হয়নি। বৃষ্টি বাদলের দিন। ঈদের বাকি আর মাত্র দুদিন। সব মিলিয়ে ভাল ব্যবসার আশা করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে আগের মত ঈদ করতে পারব কি না জানি না।’
শুধু রিপন নয়, এখানকার টুপি ব্যবসায়ী আবদুর রহিমও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগ পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। বেচাকেনার টার্গেট পূরণ হয় মূলত শবে কদরে। শবে কদরের দিবাগত রাত ও পরের দিন সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়, কিন্তু এবার বেচাকেনা খুবই কম। গতবারের অর্ধেকও হয়নি।’
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বাজারে এসেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন সাইজের টুপি, আতর, তসবিহ, মিসওয়াক ইত্যাদি। তার মধ্যে নজর কেড়েছে তুর্কি, পাকিস্তান ও চায়নার টুপি। তিন দেশের মধ্যে কদর বেশি তুর্কি টুপির। দামও তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এর মধ্যে পাকিস্তানের তৈরি টুপির দাম বেশি। ১৫০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত টুপির দাম রয়েছে। চায়না টুপির দাম রয়েছে মোটামুটি। তবে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হচ্ছে দেশি টুপির। দেশি টুপির মধ্যে হাতে বুনা, ওলের বানানো এবং গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ডিজাইনের টুপি রয়েছে।
ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, ‘দাম বেশি হলেও তুর্কি টুপির কদর রয়েছে। তবে দেশি বিভিন্ন কোম্পানির বানানো টুপির গুণগত মান ভাল দামও কম।’
এদিকে টুপির মতো সুগন্ধি আতরের কদর বেশি ভারত ও সৌদি আরবের। দুদেশের আতর ভালই চলছে বলে জানিয়েছেন আতর ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, ‘দাম বেশি হলেও সৌদি আর ভারতের আতর বেশি চলে। পাকিস্তান, ইরান, দুবাই, চায়না, জার্মানির আতরও রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির আতরও বেচাকেনা হচ্ছে।’


