মাগুরানিউজ.কমঃ
রাজীব মিত্র-
ভালো ফলন আর দাম ভালো পাওয়ায় মাগুরাতে কুল বড়ইয়ের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করে এ জেলার প্রান্তিক কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষীরা উদ্ভুদ্ধ হচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে এর আবাদ।
মাগুরা জেলায় উৎপাদিত বিষমুক্ত কুল খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতি মৌসুমে মাগুরা থেকে শত শত মন কুল চলে যাচ্ছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
কুলচাষীরা জানায়, জেলায় বিষমুক্ত কুল উৎপাদনের জন্য কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করেছে কম্পোজ সার। এতে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপশি চাহিদাও বেড়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা আগাম টাকা দিয়ে কুল বাগান কিনতে শুরু করেছে। বাছাইকরা কুল ইউরোপ-আমেরিকা সহ আরো কয়েকটি দেশে রপ্তানী করা হবে বলে তারা জেনেছেন।
জেলার কয়েক জন কুলচাষী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে কুল চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সেখানে প্রতি বিঘা কুল বিক্রি হবে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। তাদের বাগানে প্রতি দিন ১২-২০ জন শ্রমিক দৈনিক কাজ করে। কুলচাষীদের দাবি সরকার যদি তাদের কুল চাষে সহযোগিতা করে তাহলে তারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। বিদেশে বিপনন করতে পারলে কুলের দাম বাড়বে।
এছাড়া অন্য জেলার মতো মাগুরাতেও সব ধরনের বরই গাছ জন্মে। বরই গাছ ছোট থেকে মাঝারি আকারের ঝাঁকড়া ধরনের বৃক্ষ। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরে শীতকালে। কাঁচা ফল সবুজ। তবে পাকলে হলুদ থেকে লাল রং ধারণ করে। কাঁচা ও পাকা দু ধরনের বরই-ই খাওয়া যায়। স্বাদ টক ও টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কুল বরই মিষ্টি হয়। বরই শুকিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কাঁচা ও শুকনো বরই দিয়ে চমৎকার চাটনি ও আচার তৈরি করা যায়।
ধান গমের পাশাপাশি প্রচুর খাদ্য-শস্য এখন দেশে উৎপাদিত হয়। কুল,বরাই কিংবা বড়ই এমনি একটি সুস্বাদু, মিষ্টি ও পুষ্টিকর ফল। দেশের মানুষের বিকল্প খাদ্য হিসাবে পুষ্টির পূরণে অনেকটা সহায়ক হবে কুল। তারপর বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।


