মাগুরানিউজ.কম: মাগুরায় বিদেশ ফেরত দুই যুবক সূচনা করলেন নতুন এক সম্ভাবনার।
মাগুরায় প্রথমবারের মত চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন বারি-৪ জাতের টমেটো। শহরতলির বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের বিদেশফেরত সরোয়ার হোসেন ও বাচ্চু মিয়া মাত্র ২৪ শতক জমিতে এ টমেটো চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।
সরোয়ার ও বাচ্চু মিয়া মাগুরা নিউজকে জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের লাগানো ১২ শতক জমিতে যে টমেটো হয়েছে তা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এ চাষে তাদের খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। খুব স্বল্পমেয়াদি ফসলে বেশি লাভজনক হওয়ায় আগামীতে তারা এ চাষ আরো বৃদ্ধি করবেন।
তারা মাগুরা নিউজকে আরো জানান, এ ধরনের টমেটো চাষ বিদেশে স্বল্প বেতনে চাকরির চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। সরোয়ার হোসেন জানান, তিনি জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়ে যে পরিশ্রম করেছেন, সে অনুযায়ী অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। যে কারণে দেশে ফিরে আধুনিক চাষাবাদকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমে শুরু করেছেন উন্নত জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ। যা থেকে ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে আরো যে টমেটো আছে তা আরো ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিক্রি হবে।
সরোয়ার ও বাচ্চু মিয়া জানান, তাদের দেখাদেখি এলাকার কৃষকদেরর মাঝে এ টমেটো চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী মাগুরা নিউজকে জানান, সাধারণত মে-জুন মাসে গ্রীষ্মকালিন এ টমেটো চাষ করতে হয়, যা জুলাইয়ের আগেই ফলন দিতে শুরু করে। টমেটো শীতকালীন ফসল, এ কারণে অসময়ে এটি উৎপাদনের ফলে কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় মসলা গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতি ১ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন বারি-৪ জাতের টমেটো ১৫ থেকে ২০ টন পর্যন্ত উৎপাদন হয়। এ চাষ মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

