মাগুরানিউজ.কম:
চলতি পাট মৌসুমে মাগুরায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় সময়মতো পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিতে পারছেন কৃষকরা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার জলাশয়ে জাগ দেওয়া পাট ধোয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও খুশি। বর্তমানে জেলার কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার চার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পাট চাষ হয়েছে। চার উপজেলায় ৩০ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কিন্তু চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭৮৫ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮৭২ হেক্টর বেশি। যা থেকে উৎপাদিত হবে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫২ বেল পাট।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা স্থানভেদে পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আশ ছাড়ানোর জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
শ্রীপুর উপজেলার বরইচরা গ্রামে পাট ছাড়ানোর কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিক ফাতেমা খাতুন, মহাসিনা আক্তার, জহুরা বেগম, আলোয়ারা বেগমসহ অনেকে জানান, পাট মৌসুমে তারা সংসারের কাজের পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে পাট ছাড়ানোর কাজ করছেন। আবার পাটকাঠি নেওয়ার শর্তেও তারা পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করেন। এতে করে সংসারের ব্যয় নির্বাহে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারছেন তারা।
সদর উপজেলার কাপসহাটি গ্রামের দিন মজুর জুলফি বিশ্বাস, চেঙ্গাডাঙ্গী গ্রামের ক্ষিতিস চন্দ্র, রাতনসহ অনেকে জানান, ১০০ আঁটি পাট ছাড়ালে মজুরি পাওয়া যায় ৩০০ টাকা। ভাল দিনমজুর এক দিনে ২০০ আঁটি পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াতে পারেন।
রাস্তার দু’ধারে ও বাড়ির উঠানে বাঁশের আড়ে চলছে পাট শুকানোর কাজ। একই সঙ্গে স্থানান্তরের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে পাটকাঠির বোঝা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, পাট বাজারে বিক্রির জন্য আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃষকরা। জেলার গ্রামাঞ্চলের অনেক হাট-বাজারে শুরু হয়েছে আগাম পাট বিক্রি।
সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের কৃষক মোকছেদ মণ্ডল জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন। প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় পাটের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু পাট বোনার কিছু দিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। চার বিঘা জমি থেকে তিনি ৭৫ মণ পাট পাওয়ার পাশাপাশি ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
পাতরা গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে। জমি থেকে পাট কেটে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে পাট ছাড়ানো ও পঁচানোর জন্য কৃষি বিভাগ তাকে সার্বিক সহযোগিতা করছে। ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান, জেলায় পাট চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টি থাকায় চাষাবাদ হয়েছে একটু দেরিতে। তবে পরবর্তীকালে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ করতে সক্ষম হয়েছে। পাট চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সব মিলিয়ে জেলায় পাটের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি পাটে ভালো দাম পাবেন কৃষকরা।


