মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরায় বাসের তিন যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন আট কেজি। এ ঘটনায় ওই তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। শহরের পিটিআই স্কুলের সামনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী সংগ্রাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে বুধবার ভোরে তল্লাশি চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
সোনার বারসহ তিন পাচারকারী আটকের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন।
জেলা পুলিশ সুত্র জানায়, আটক তিন পাচারকারী সোনা চোরাচালান নিয়ে পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। বিমান পথে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সোনা আন্তজার্তিক একটি চক্র মাগুরা হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করেন বলে তারা জানায়। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাগুরাকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। পাচারকারীদের দেওয়া এসব তথ্যে পুলিশকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
এর আগে বেশ কয়েকটি চালান পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও মাগুরা পুলিশের খাতায় এটিই সোনার সবচেয়ে বড় চালান।
পুলিশের দায়িত্বশীল কয়েকটি সূত্র জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মুন্সীর নেতৃত্বে এসআই মো. আরিফ, এসআই বিশ্বজিৎ, এসআই নিমাইসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাগুরা শহরের পিটিআই স্কুলের সামনে বাসের তিন যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ৮০টি সোনার বার (৮ কেজি) উদ্ধার করেছে। সোনার বারগুলো শরীরের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাচ্ছিল পাচারকারীরা।
আটক তিন পাচারকারী হচ্ছে- মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার মাশাইল গ্রামের মৃত সন্তোষ শীলের ছেলে সুবোধ শীল (৩২), মানিকগঞ্জ সদরের ঘোনা গ্রামের সুখ শীলের ছেলে নিরঞ্জন শীল (৩৪) ও ঢাকার সাভার থানার বনগাঁও গ্রামের চিত্তরঞ্জন শীলের ছেলে সুমন শীল (৩০)। প্রতিটি সোনার বারের গায়ে দুবাই লেখা ছিল। উদ্ধারকৃত সোনার বাজার মূল্যো প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
পাচারকারীরা পুলিশকে জানিয়েছে, ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে দোহার- নবাবগঞ্জ এলাকার মরু নামে এক ব্যক্তি সোনার বারগুলো সাতক্ষীরার দাদু নামে একজনের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য তাদের তিন জনের সঙ্গে ১৫ হাজার টাকায় চুক্তি করে। এর আগেও তারা একাধিকবার ঢাকা থেকে সাতক্ষীরায় এ ধরনের সোনার চালান নিয়ে গেছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছে। তবে পাচারকারীরা মূলহোতাদের ছদ্মনাম বলছে বলে পুলিশ মনে করছে।
সূত্র জানান, দেশের আইন অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সোনার বার বা ‘বিস্কুট’ আমদানি করা যায়। গত দুই বছরে এক রতি সোনা আমদানিরও শুল্ক পায়নি সরকার। অথচ বাজারে সরবরাহে কমতি নেই। স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের আট থেকে ১০ হাজার গয়নার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার কেনা-বেচা হয়। এই বিপুল পরিমাণ সোনা আসে চোরাকারবারিদের মাধ্যমে। প্রতিদিনই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটলেও ধরা পড়ছে কালেভদ্রে।
দুবাইয়ে বসবাসকারী কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি এ দেশে সোনা পাঠানোর কাজ করেন। সিঙ্গাপুর, দোহা, হংকংয়েও এই পাচারকারী চক্রের লোকজন অবস্থান করেন। মূলত এসব রুটের যাত্রীকে টাকা অথবা বিমান টিকিটের বিনিময়ে নানা উপায়ে এ দেশে সোনা পাচার করা হয়।
সূত্র আরো জানান, চোরাই পথে পাঠানো সোনার বড় বাজার প্রতিবেশি দেশ ভারত। অপেক্ষাকৃত অরক্ষিত হওয়ায় সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অধিকাংশ সোনা ভারতে পাচার হয়। এ কাজে নিরাপদ রুট হিসেবে মাগুরা জেলা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। সাতক্ষীরা যেতে পাচারকারীরা নানা দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করেন বলে পুলিশকে জানায়। ব্যবসায়ী দ্বন্দ্বে সোনার এই বড় চালানটি ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা হয়েছে। গোটা চক্রকে সনাক্ত করতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেও তদন্তের স্বার্থে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।


