মাগুরানিউজ.কমঃ
মিষ্টি খেজুর রস। শীত মৌসুমে এই রস নিয়ে গ্রামের মা বোনেরা মেতে ওঠেন পিঠাপুলি তৈরির উৎসবে। বাঙালি ভোজন বিলাসী তা কারো অজানা নয়। বিশেষ করে পিঠাপুলি তৈরি ও তা ভোজন বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। হেমন্তে নতুন ধান উঠলে মা-দাদিরা তা রোদে শুকিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পিঠার জন্য চাল তৈরি করেন। তারপর সেই চাল ঢেঁকিতে ফেলে গুঁড়ি তৈরি করেন। এই গুঁড়ি দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম পিঠা।
অবশ্য গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকির ব্যবহার এখন প্রায় উঠে গেছে। অনেকে মেশিনে গুঁড়ি তৈরি করে আনেন। অনেকে চালের গুঁড়ির পরিবর্তে ময়দা দিয়েও পিঠা বানান বর্তমানে। পিঠাকে মুখোরোচক করার জন্য গুঁড়ির সঙ্গে মেশানো হয় গুড়, নরিকেল, চিনিসহ নানা সুস্বাদু উপকরণ।
যেভাবেই বানানো হোক, পিঠার রয়েছে হরেক রকম নাম। ভাপা পিঠে, পুলি পিঠে, পাটিসাপটা পিঠে, কুলি পিঠে, তেল পিঠে, দুধ পিঠে ইত্যাদি। হরেক রকম পিঠায় শীতে বাঙালি উৎসবে মাতে।
শুধু নিজেরা খায় তাই নয়, পিঠা বানিয়ে আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে জামাই-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের দাওয়াত করে আনে। মন ভরে খাওয়ায় মজার মজার পিঠা। কোন জামাই কতটি পিঠা খেতে পারবে, তাই নিয়ে চলে পাল্লা। রসে ভেজানো পিঠার রসে ভরে ওঠে সবার মুখ। মুরব্বিরা খাইয়ে আনন্দ পান।


