মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে এমন কিছু তথ্য যা জেনে আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন, আপনি বলবেন…….. ।
সাথে থাকুন আর জানুন জানা-অজানা আপনার মাগুরাকে। শেয়ার করে মাগুরার সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
১৮ তম পর্ব-
শুরু হলো হত্যা-লুট-অত্যাচার…..
১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল শুক্রবার দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ থেকে আলমখালী হয়ে এবং যশোর থেকে সীমাখালীর পথ ধরে পাক সেনারা একযোগে মাগুরার দিকে আসতে থাকে। ঝিনাইদহ থেকে আগত পাকসেনাদলের বিশাল গাড়ীর বহর মাগুরার আলমখালী বাজার সংলগ্ন রাস্তায় থামিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করতে থাকে। এসময় আলমখালী ব্রীজ ও রাস্তার লগোয়া উত্তরের বাড়ীর বাসিন্দা কুলু সম্প্রদায়ের শ্রী সুরেন কুলু ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাক সেনারা তার আঙ্গিনায় সুরেন কুলুকে গুলি করে হত্যা করে।
প্রকাশিত ও ঐতিহাসিক তথ্যমতে, সাঁজোয়া গাড়ীর বহর এসময় শহরে না ঢুকে ভায়না মোড় অতিক্রম করে সোজা চলে যায় মাগুরা কামারখালী সড়কের দিকে এবং পারনান্দুয়ালী গ্রামের মধ্যে বর্তমান বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপর প্রায় আধা মাইল দীর্ঘ সারি দিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ী দাঁড়িয়ে থাকে। কোন প্রতিরোধ আসে কি না তা আঁচ করার জন্য। এ সময় বাগবাড়ীয়া গ্রামের ঝাকড়া চুলের সুঠামদেহী লালু পাগলা পাগলামীর বশে হুংকার দিয়ে পাকসেনাদের গাড়ীর কাছে এগিয়ে গেলে পারনান্দুয়ালী স্কুলের সামনের রাস্তায় পাকসেনার গুলিতে লুটিয়ে পড়ে লালু পাগলের নিথর দেহ। পাক সেনাদল সন্ধা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষার পর ও কোন হামলা বা প্রতিরোধের সম্মুখীন না হওয়ায় নিরাপদ বোধ করে।
এদেরই একটি অংশ সন্ধ্যার দিকে মাগুরা শহরের পি,টি,আই, তে ক্যাম্প স্থাপন করে। পরদিন মাগুরা শহরের ভি,টি,আই, সরকারী বালক বিদ্যালয় ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভবন সহ অন্যান্য স্থানে পাক ক্যাম্প স্থাপন করে।
এদিন ২৪ এপ্রিল বাংলা ১০ই বৈশাখ শনিবার বিকেলে পাকসেনাদলের ৫/৬ খানা খোলা জীপ মাগুরা শহরের নতুন বাজার এলাকায় যেয়ে কয়েকটি পাটের গুদামে অগ্নিসংযোগ করে এবং আশে-পাশের লোকজনদেরকে গুদামের মালামাল লুটপাট করতে নির্দেশ দেয়।
এর পরপরই সন্ধ্যার প্রাক্কালে ঐ সেনাদলটি মাগুরা থানা ও ডাকঘরের অদুরে টাউন হল ক্লাবের সামনে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জগবন্ধু দত্তের বাড়ির সামনে এসে থামে। বিশাল বাড়ীতে তখন জগবন্ধু দত্ত একা ছিলেন। সেনা সদস্যরা বাড়ির আঙ্গিনায় গুলি করে বৃদ্ধ জগবন্ধু দত্তকে হত্যা করে থলে ভর্তি স্বর্নালংকার টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় অস্ত্রের মুখে পথচারীদের ঐ বাড়ির মালপত্র লুট করতে প্ররোচিত করে। এভাবেই পাক সেনারা মাগুরায় হত্যা লুট ও ধ্বংসযজ্ঞে উৎসাহের সূচনা করে।
চলবে-


