মাগুরায় রমজানের শুরুতেই লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার

মাগুরানিউজ.কমঃ

market1434688515

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে যেসব পণ্য রমজানে বেশি প্রয়োজন হয়, এমন পণ্যের দাম অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

আজ সকালে মাগুরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকারের বেধে দেওয়া দরের চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১০ থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীদের দুষছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পাইকারি বাজারে মূল্য বেশি হওয়ায় বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

মাগুরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়, মুসরী ডাল ১২০ টাকায়, খেসারি ডাল ৬০ টাকায়, তেল ৯৫ থেকে ১০২ টাকায়। চিনি মান বেধে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। খেজুর খোলা ১৫০ টাকা, আর প্যাকেট ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরা পুরাতন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আজিম উদ্দীন মাগুরানিউজকে বলেন, ‘আমরা চিনি পাইকারদের কাছ থেকে ৩৯ টাকায় কিনেছি। এখন ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি না করলে আমরা খাব কি?’ অন্যদিকে, টিসিবি এবং বাণিজ্যমন্ত্রণালয় বলছে, চাহিদার চেয়ে পণ্যের মজুদ দ্বিগুন আছে। ফলে দাম বাড়বে না।

স্বস্তি নেই মাছ-মাংস এবং সবজির বাজারেও। রমজান উপলক্ষে সবকিছুতেই ১০ থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। বেগুন গত এক সপ্তাহ আগেও ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হতো। আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।এছাড়া বেড়েছে পেয়াজ, মরিচ, আলু, ধনিয়া পাতা, মরিচ, পেপে, শসাসহ সব ধরনের সবজির দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেনা পড়ে বেশি, তাই বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।

শুক্রবার সকালে মাগুরা পুরাতন বাজারে কথা হয়, এনজিও কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তার ভাষায়, ‘পবিত্র রমজান মাস এলেই অস্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। অথচ রমজান হচ্ছে সংযম এবং ত্যাগের মাস। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এই ঊর্ধŸগতির কারণে সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠে এটি দু:সহ যন্ত্রণার মাস। এ কারণে প্রতি বছর একই দৃশ্য দেখতে দেখতে সাধারণ মানুষের কাছে এই দু:সহ যন্ত্রণা এখন সহ্য হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, এই সময়টায় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, রমজান মাসকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা বহুল ব্যবহৃত অনেক পণ্যে দাম কমিয়ে দেন। এছাড়াও দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরণের ছাড়। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী সাধারণের কাছে এক প্রকার বিনামূল্যে বিলি করেন রমজানের পণ্য। তারা মনে করেন, রমজান ব্যবসা বা অতি মুনাফা করার মাস নয়। তারা সংযম বা ত্যাগের মাসটি অন্যভাবে উপভোগ করেন।

আরেকজন ক্রেতা আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর দেখা যায়, যেই সরকারে থাকুক রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সভা হয়। যেখানে মন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন রকম আশ্বাস, অনুরোধ এবং হুঁশিয়ার করে দেন যে, রমজানে কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো যাবে না। কোনো কোনো ব্যবসায়ী মন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দেন, আবার কেউ কেউ বিরোধীতাও করেন। অবশেষে রমজানের একসপ্তাহ আগে থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে এসব পণ্যের।

তিনি বলেন, মন্ত্রীরা প্রতিবছরই বলেন, এবার বাজার কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এই পর্যন্ত বাজার কারসাজিতে জড়িতদের কোনো রকম শাস্তিও  হয়নি। অথচ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে মন্ত্রীরা ঠিকই আতাত রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে বাজার কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে? প্রশ্ন সবার। বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রয়োজন রমজানের আগে চাহিদার চেয়ে মজুদ বাড়ানো। অন্যদিকে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলকে থাকতে হবে স্বক্রিয়। যদিও প্রতিবারই বাণিজ্যমন্ত্রণালয় এবং টিসিবি বলে দেয় যে, চাহিদার চেয়ে মজুদ বেশি আছে। তবে কেনো বাজার হয় নিয়ন্ত্রণহীন-তার জবাব মেলেনা কোনো দিন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: