মাগুরানিউজ.কমঃ
আসানসোলের রুটির দোকানের এক সামান্য কর্মচারী। পেটে ভাতে দিন চলে, কখনো বা তাও চলতে চায় না। চারিদিকে নিদারুণ অভাব আর হতাশা। দিনভর হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর অন্যরা যখন একটু বিশ্রামের আশায় বালিশে মুখ গুজে ঘুমায়, ছেলেটি তখন খাতা খুলে লিখতে বসে। মননের গভীর থেকে উচ্চারিত তার প্রতিটি শব্দই ঝংকার তোলে পাঠকের প্রাণে, সুরে সুরে আন্দোলিত করে লাখো মানুষের প্রাণ। কবিতায় ও গানে দ্রোহ, ভালোবাসা আর মানবতার জয়গান গাওয়া সেদিনের সেই ছোট্ট কিশোরটিই আমাদের আজকের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে বিংশ শতাব্দীর এই অন্যতম কবি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক বাংলা কাব্যে তার অগ্রগামী ভূমিকার জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।
বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। ‘অগ্নিবীণা’ হাতে তাঁর প্রবেশ, ‘ধূমকেতু’র মতো তাঁর প্রকাশ। লেখাতে তিনি যেমন ছিলেন বিদ্রোহী, তেমনি বাস্তব জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বহুবার। আর তাই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি ভূষিত করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবেও।
আজ ২৫ মে বাংলা সাহিত্যের অমর এই কবির জন্মদিন। কবির জন্মদিনে ‘মাগুরানিউজ’ পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।


