মাগুরানিউজ.কমঃ
ঢাকা অফিস: শিল্পীরা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ এবং পরিচিত-অপরিচিত অনেক মুখ। ধীরে ধীরে সবাইকে দেখা যাচ্ছিল আজ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় জুড়ে অনুষ্ঠিত হল ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪।’ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ তে আজীবন সম্মাননা পেলেন যৌথভাবে সৈয়দ হাসান ইমাম ও রাণী সরকার। তাঁদের কর্মজীবনের খণ্ড খণ্ড অংশ আর বিবরণী প্রদর্শিত হল পর্দাজুড়ে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪’র সেরা ছবি নির্বাচিত হল ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। সেরা কাহিনিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হল ‘মেঘমল্লা’ এর জন্য লেখক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-কে। তাঁর ভাই লেখকের পক্ষ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করলেন। একই ছবির জন্য জাহিদুর রহিম অঞ্জন ‘সেরা সংলাপ রচয়িতা’ ও সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন। সাধারণ পোষাকে জাহিদুর রহিম অঞ্জন ঠিক যেমন থাকেন তেমনভাবে এ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছিলেন। ‘মেঘমল্লার’ এর জন্য সেরা শব্দগ্রাহক হিসেবে রতন পাল এবং ‘শিশুশিল্পী’ বিশেষ শাখায় মারজান হোসাইন জারা পুরস্কার পেলেন।
এবার সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফেরদৌস। সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার গ্রহণ করলেন যৌথভাবে মৌসুমী ও বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। মৌসুমী কালো শাড়িতে সেজে উপস্থিত হয়েছিলেন, অন্যদিকে মীম সাদা পোষাকে উপস্থিত হয়েছিলেন অনুষ্ঠানে।
করতালিতে মুখরিত হল রুমে চেনা ভঙ্গিতে হেঁটে সেরা গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার হাতে নিতে মঞ্চে উঠলেন সংগীতশিল্পী জেমস। যৌথভাবে সেরা গায়িকা নির্বাচিত হলেন রুনা লায়লা ও মমতাজ।
এছাড়াও সেরা সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও রূপসজ্জা শিল্পী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করলেন যথাক্রমে সাইম রানা, মাসুদ পথিক, বেলাল খান ও আবদুর রহমান। পোশাক ও সাজসজ্জা বিভাগে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নাম লেখালেন কনকচাঁপা চাকমা। সেরা খল চরিত্রের জন্য
তারিক আনাম খান এবার জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করলেন। সেরা চিত্রনাট্যকার সৈকত নাসির ও সেরা সম্পাদক হিসেবে তৌহিদ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ আসরে মিশা সওদাগর সেরা কৌতুক অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার গ্রহণ করলেন। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে এজাজুল ইসলাম ও পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার নিলেন চিত্রলেখা গুহ।
পুরস্কার বিতরণের পর শুরু হল জমজমাট আলো ঝলমলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নাচ-গান আর হৈ চৈ এর এ পর্বে উপস্থাপনায় ছিলেন
অভিনেতা রিয়াজ এবং অভিনেত্রী নওশীন। নৃত্যশিল্পী মৌ তাঁর দলসহ উঠে এলেন মঞ্চে। ফাহমিদা নবীর কন্ঠে ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ গানের সুরে মজে উঠলেন দর্শক-শ্রোতা। সঙ্গীতশিল্পী মমতাজের কন্ঠে ছিল নিশি পঙ্খী- গানটি। সেই সাথে বহু চেনা ‘আগে যদি জানতামরে বন্ধু’ গানটিও।
পারফর্ম করলেন অমিত হাসান, ওমর সানী, নিরব, ইমন, তমা মির্জা, পরীমনি, আইরিন এবং ভাবনা। নাচে-গানে-আড্ডায় ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছিল তখন উৎসবের সন্ধ্যা।

