মাগুরানিউজ.কমঃ
বৈশাখী দহনে প্রাণ ওষ্ঠাগত। কিন্তু গরমের কষ্ট সওয়া গেলেও চাষের কী হবে? পুকুর খাল বিল শুকিয়ে কাঠ। মাটির নীচে পানিস্তর নামছে তো নামছেই। অগভীর নলকূপ পানি টানতে পারছে না। গভীর নলকূপ গভীরতর করে পানি মিললেও খরচ বাড়ছে।
বোরো চাষের সময় এটা। এতে সেচ লাগে অনেক বেশি। বৃষ্টি বাদ দিয়ে আবাদ। ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়েও লাভ হচ্ছে না।
চাষীরা এখন যাবেন কোথায়? কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও দাম পাবেন না। বাংলাদেশের জমি উর্বর এটা ঠিকই, তাই বলে তো পানি ছাড়া চাষ হয় না!
বিশ্বব্যাঙ্কের সেচ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেচ কমিয়ে চাষ করা দরকার। চীনে এক কেজি ধান উৎপাদনে পানি লাগে এক হাজার লিটার। সেখানে বাংলাদেশের প্রয়োজন চার হাজার লিটার। এটা হচ্ছে ঠিকঠাক ব্যবহারের অভাবে।
কৃষিতে বিজ্ঞান প্রযুক্তিকে বেশি করে কাজে লাগাতে হবে। যথার্থ পানি প্রকল্পের অভাবেই পানি নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে না পারলে পানির অভাব কাটবে না। পাশাপাশি পানির অপচয় বন্ধ করাটাও জরুরি।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে বিশ্বে। বিশেষ করে খরা আর বন্যা প্রবণ এলাকায় তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দেবে। বিপদ বৃত্তের বাইরে নয় বাংলাদেশ।
সেচ সমস্যার অন্যতম কারণ এটাই। বোরো মরশুমে জমি শুকিয়ে যেন মরুভূমি। পানির সন্ধানে খরচ বাড়ছে।
বোরো চাষে আর ভরসা পাচ্ছে না কৃষকরা। তবু চাষ চালাতে হবে। চার ফসলি উর্বর জমি কি ফেলে রাখা যায়! কৃষি নির্ভর দেশে উৎপাদন বাড়াতে সারা বছরই চাষ। আমনের সময় বৃষ্টি নামে, বোরোতে সে সম্ভাবনা কম।
কালবৈশাখীতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সেটা চাষের জন্য যথেষ্ট নয়। তাও যেটুকু পাওয়া যায় তাই লাভ। এখন আকাশে এক টুকরো মেঘ দেখা দিলেও অনেক।


