মাগুরানিউজ.কমঃ
বসতবাড়ির আশপাশে অনাদরে অবহেলায় বেড়ে উঠা সজনে এখন আর ফেলনা নয়। সবজি হিসেবে উপাদেয় এবং অসাধারণ ভেষজগুণের কারণে সজনে ডাটার এখন ব্যাপক চাহিদা। সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবার প্রবাসে, আত্নীয় স্বজনকে সজনে পাঠাচ্ছেন মাগুরাবাসী।
সজনের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মাগুরার কৃষকেরা এখন পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে সজনের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
এখানে উৎপাদিত সজনে ডাটা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ দক্ষিণের ১০ জেলায়। বিক্রয় করে চাষীদের ঘরে আসছে ভালো মুনাফা।
কিন্তু এখন অবস্থা ভিন্ন। সজনে এখন ভেষজ দামি সবজির স্থান লাভ করেছে।
মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শজনে বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এখন দাম কমে গেলেও প্রতি কেজি সজনে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।
কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর সজনের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হওয়ায় তারা বসতবাড়ির আশপাশে ও ক্ষেতের আইলে সজনে গাছ রোপণ করছেন। অন্য সবজি বিক্রি করতে বাজারে যেয়ে বসে থাকতে হলেও সজনে ব্যাপারীরা বাড়ির উপর এসে চড়া দামে কিনে নিয়ে যায়।
ব্যাপারীরা ঢাকাসহ বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, নড়াইল, ঝিনাইদাহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় চালান করছেন সজনে।
কৃষি বিভাগ জানায়, বসন্তের আবাহনে ফুলে ফুলে শুভ্র হয়ে উঠে সজনে গাছের প্রতিটি শাখা। বকের মতো সাদা নতুন ফিকে সবুজ পাতার পটভূমিতে অজস্র ফুল চোখে প্রশান্তির স্নিগ্ধতা বুলিয়ে দেয়। ফাল্গুনের শেষ ও চৈত্রের শুরুতে কঁচি সজনে ডাটা খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে।
সাধারণত শাখা কেটে রোপণ করার মাধ্যমেই সজনের বংশবিস্তার করা হয়। রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গাছ থেকে সজনে সংগ্রহ করা যায়। সজনে ডাটার পাশাপাশি ফুল ও পাতা সবজি হিসেবে উপাদেয় এবং জনপ্রিয় বটে।
সজনে সবজি হিসেবে যেমন উপাদেয়, এর ভেষজগুণও তেমন অসাধারণ। মৌসুমি নানা রোগব্যাধির নিরাময় ও শরীরে এসব রোগের প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে বসন্ত, জন্ডিস, মূত্রসংক্রান্ত সমস্যায় প্রাচীনকাল থেকে সজনের নানা অংশের ব্যবহার করে আসছেন ইউনানি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা।
সদরের কৃষক, শহীদ উদ্দিন জানান, পরিকল্পিতভাবে পতিত জমিতে সজনে চাষ করে তিনি এ বছর প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এ জন্য তাকে তেমন ব্যয় করতে হয়নি।
সজনের কদর বৃদ্ধি এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পরিকল্পিতভাবে সজনের আবাদ করছেন।


