মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( মাগুরার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য যা জেনে আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে মাগুরার সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
১৯ তম পর্ব-
মাগুরায় মুক্তি বাহিনীর আত্নপ্রকাশ-
জয়বাংলা শ্লোগানে মুক্তি বাহিনীর আত্নপ্রকাশ ঘটে এসময়ই। মাগুরায় হত্যা লুট ও ধ্বংসযজ্ঞের সাথে এসময় পাক সেনাদের নির্দেশে ও সরাসরি তত্ত্ববধানে মাগুরায় গঠিত হয় শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী। মানুষের ব্যাপক আস্থা অর্জনে সক্ষম হওয়ায় ততদিনে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এর উপর নির্ভর করে মাগুরার বিভিন্নস্থানে মুক্তি সেনাদল গঠিত হতে থাকে।
অপরদিকে ভারত থেকে সশস্ত্র অবস্থায়ও অনেকে মাগুরা অঞ্চলে ফেরত আসতে থাকে এবং এভাবেই বেশ কয়েকটি মুক্তি বাহিনীর আত্নপ্রকাশ ঘটে।
এর মধ্যে শ্রীপুর বাহিনী তথা আকবর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মহম্মদপুর-ফরিদপুর অঞ্চলের মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কমল বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং মুজিব বাহিনী সাহসী ভূমিকা নিয়ে পাক সেনা ও স্থানীয় রাজাকার আল বদর বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখে।
এদের পাশাপাশি ছিল এটিএম ওয়াহ্হাবের ঈগল কোম্পানি। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা আক্রমণে অংশগ্রহণ করত।
ফলে হানাদার বাহিনীর ঢালাও ভাবে গ্রাম-গঞ্জে জ্বালানো-পোড়ানো ও হত্যাযজ্ঞের অপঃতৎপরতা অনেকাংশে ব্যাহত হতে থাকে। অন্যদিকে খারাপ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্যার পানি, নদী, খাল, বিল, বনাঞ্চল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর এ সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা কার্যকলাপ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হয়। নহাটা-জয়রামপুরের মোড়, শ্রীমন্তপুর, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর সদরসহ অনেক সম্মুখ যুদ্ধে মাগুরার মুক্তিযোদ্ধাদের বীরোচিত কার্যকলাপ স্বাধীনতার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
চলবে-
-সব বাহিনী বা বাহিনী প্রধানের ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি, চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


