মাগুরানিউজ.কমঃ
আজ ২১ মার্চ। বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের সময় গত বছর এই দিনে মাগুরা-যশোর সড়কের মঘির ঢালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হন ৯ শ্রমিক। যাদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। বাকিরা গুরুতর দগ্ধ হয়ে বেঁচে রয়েছেন।
নির্মম এ ঘটনায় এক বছর অতিবাহিত হলের বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসীরা।
অন্যদিকে পেট্রোল বোমার দগ্ধ হয়ে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকেরা নানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারনে কর্মহীন হয়ে অভাব অনটনে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন রওশন আলী বিশ্বাস, মতিন বিশ্বাস, শাকিল আহমেদ, ইয়াদুল ও ইমরান। হতাহত সবার বাড়ি মাগুরা সদরের মালিক গ্রামে।
ঘটনার পরদিন মাগুরা সদর থানার এএসআই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আলী আহমেদসহ ২৬ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঐ বছরের ১৮ অাগস্ট মাগুরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদসহ ২৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি ইমাউল হক।
এই আদালতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পিপি মশিউর রহমান জানিয়েছেন, মামলার ২৬ আসামির মধ্যে অভিযোগপত্রে সাতজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন চারজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে।সে কারণে তিনি অভিযোগপত্রে নারাজি আবেদন করেছেন। আগামী ২৯ মার্চ নারাজি আবেদনের শুনানি হবে বলে জানান তিনি।মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ জানান, পুলিশ ঘটনার পর দ্রুততার সাথে সন্ত্রাস দমন আইনে দায়েরকৃত এ আলোচিত মামলায় ২৩ জনের নামে চার্জশিট প্রদান করেছে। ৩ আসামী ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদান করেছে। বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি অ্যাড. কামাল হোসেন বলেন, বর্বরোচিত এই পেট্রোল বোমা হামলায় জড়িতদের সর্বাচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি আশা করেছেন। বর্তমানে ২৩ আসামীর মধ্যে ১৩ আসামী পালাতক রয়েছে। জামিনে আছে ১৪ জন। বর্তমানে ৫ আসামী জেল হাজতে রয়েছে।


