মাগুরানিউজ.কমঃ
এবারই প্রথমবারের মতো একাদশে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। আর নতুন এ পদ্ধতির মাধ্যমে সারা দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হতে গিয়ে আবেদন থেকে শুরু করে ফলাফল ও ভর্তি নিয়ে পড়েছে চরম জটিলতা ও ভোগান্তির মধ্যে।
শিক্ষার্থীদের এ ভোগান্তির কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শুরু হয় নতুন মাথা ব্যথা। জটিলতা দূর করতে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘একাদশে দুটি মেধা তালিকার বদলে মোট চারটি মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে জানান। ভর্তির জন্য সময় আমরা তিন সপ্তাহ বাড়িয়ে দিচ্ছি। এ জন্য কোনো বিলম্ব ফি দিতে হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত এবারের মতো সমস্যা ভবিষ্যতে হবে না। উন্নত মান অর্জনের ক্ষেত্রে শুরুর সমস্যা হলো এটা। বড় কোনো কাজ উন্নত পর্যায়ে নিতে গেলে ছোটখাটো সমস্যা হয়। তবে চূড়ান্ত বিচারে বড় অর্জন সম্ভব হয়। আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে চাই, ভর্তি জটিলতার জন্য কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, হয়ত একটু বিলম্ব হচ্ছে।’
মন্ত্রণালয়ের আরেক সূত্র জানায়, সবাই প্রথম ধাপে এসে বুঝতে পারবে না, পারলেও সে হয়তো টিকবে না, টিকলেও হয়তো তার পছন্দ মতো হবে না। তাই শিক্ষার্থীরা যাতে সময় নিয়ে বিবেচনা করে পরবর্তী সুযোগগুলো নিতে পারে, এ জন্য চার ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ ও ভর্তি করা হবে।
ওই সূত্রে আরো জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় নির্বাচিত হয়েও কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়নি বা নির্বাচিতই হয়নি, তারা তৃতীয় ধাপে কোনো ফি ছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের বিপরীতে আবেদন করতে পারবে। ৯ ও ১০ জুলাই তারা আবেদন করতে পারবে। তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ জুলাই। এ শিক্ষার্থীরা ১২ জুলাই ভর্তি হবে। এ ছাড়া যারা ভর্তির জন্য আবেদন করেনি কিংবা সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়নি, কোনো ফি ছাড়া তারা ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবে। আবেদনগুলো বিবেচনা করে ২৩ জুলাই তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবে।’
শিক্ষামন্ত্রীর নতুন এ ঘোষণার ফলে একাদশে ভর্তি-ইচ্ছুক ও প্রথম মেধা তালিকায় চান্স না পাওয়া প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য তৈরি হলো নতুন সুযোগ।
অনলাইনে মেধা তালিকার জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন অভিভাবকরা।
এবার নতুন পদ্ধতিতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ জন শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তিতে আবেদন করেছে। রোববার পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জনের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।


