মাগুরানিউজ.কমঃ
লাল রং এর গেঞ্জি পরনে, মাথায় লাল টুপি, চোখে লাল চশমা, ঠোটে লালবাঁশি, হাতে লাল হ্যান্ড মাইক আর এ যাত্রার বাহন লাল সাইকেলের সামনের দিকে বাঁধা জাতীয় পতাকা ও লাল পতাকা। যেন লাল রং দিয়ে বাল্যবিবাহের বিপদকেই জানান দিচ্ছেন সবার মাঝে। সাইকেলের সামনে পিছনে লেখা রয়েছে তার যাত্রার উদ্দেশ্য। রাস্তায় কোথাও দাঁড়ালেই লোকজনকে বলছেন বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে। সবই তার ‘লাল’ রঙের তাই নাম তার ‘লাল যোদ্ধা’ আনোয়ার হোসেন।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি। বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। তবে মনে তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়। বাল্যবিবাহ বন্ধে সোচ্চার। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে লাল রঙের বাইসাইকেলে ৬৪ জেলায় ছুটে গেছেন। বাড়ি বগুড়ার সদর উপজেলার বারপুর গ্রামের উত্তরপাড়ায়। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারাভিযানে বের হয়েছিলেন লাল সাইকেলে চড়ে। ৬৭ দিনে তিনি গেছেন ৬৪ জেলায়। এখন তিনি প্রতিটি উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে প্রচার চালাচ্ছেন।
১৩নভেম্বর থেকে তিনি মাগুরা জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা নিয়ে প্রচার করেছেন। লাল রং এর গেঞ্জি, লাল টুপি, লাল সাইকেল, লাল চশমা, লালবাঁশি, হাতে লাল হ্যান্ড মাইক আর লাল সাইকেলের সামনের দিকে বাঁধা জাতীয় পতাকা ও একটি লাল পতাকা।
আনোয়ার হোসেন ‘মাগুরা নিউজ’কে বলেন, ‘রাস্তাঘাটে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, আমার সবকিছু এমন লাল কেন। জবাবে বলেছি, বাল্যবিয়ে পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র সবার জন্যই বিপজ্জনক। লাল পোশাক-সাইকেল-পতাকার মাধ্যমে আমি বোঝাতে চেয়েছি, বাল্যবিয়ে আসলেই বিপজ্জনক।’
মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে প্রচারণা শেষে আনোয়ার গতকাল যশোরে গমন করেছেন।
আনোয়ার ‘মাগুরা নিউজ’কে বলেন, বাল্যবিবাহের শিকার দুই ভাগনির করুণ পরিণতি তাঁকে পীড়া দেয়। এরপর থেকে খবরের কাগজে বাল্যবিবাহের সংবাদ দেখলেই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তেন। সংগ্রহ করতেন। বাল্যবিবাহ বন্ধে কিছু একটা করার কথা ভাবতেন।
তিনি ‘মাগুরা নিউজ’কে বলেন, দুই যুগ পর চট্টগ্রাম ছেড়ে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি যান। সেখানে আসবাবের দোকান দেন। সেখানেও বাল্যবিবাহের নানা ঘটনা ঘটতে দেখেন। তাঁর মন খারাপ হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেন সাইকেলে ঘুরে ঘুরে বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচার চালাবেন। দোকান বিক্রি করে পুরোনো একটি সাইকেল কেনেন। কিছু প্রচারপত্রও ছাপান। প্রথমে গত বছরের নভেম্বরে সেই সাইকেলে চেপে বেরিয়ে পড়েন। কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রাম শহর ঘুরে মানুষের হাতে তুলে দেন বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারপত্র।
জনসচেতনতামূলক এই উদ্যোগ সকলের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা রইল।


