হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী: মাগুরাবাসির উচ্চশিক্ষায় যার অবদান চিরস্মরনীয়

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদন-

গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১২৪ তম জন্মদিন আজ। ১৮৯২ সালের এই দিনে বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের (ভারত) মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম সোহরাওয়ার্দীর। বাবা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭১ বছর বয়সে মারা যান বাঙালির গর্ব বাংলার এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, সে সময়ে মাগুরার জনপদ ছিল কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। অনগ্রসর, অবহেলিত এবং আধুনিক শিক্ষা-সভ্যতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। অবহেলিত ও বঞ্চিত অনগ্রসর মাগুরাবাসির অন্ধকরাচ্ছন্ন অন্তর আলোকিত করার প্রত্যয়ে মাগুরার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি বিদ্যানিকেতন। যা আজকের সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা। 

১৯৩৮ সাল। তৎকালীন মাগুরা মহকুমার অন্যতম বিদ্যাপিঠ মাগুরা আব্দুল গনি হাইমাদ্রাসা (বর্তমানে মাগুরা এ.জি. একাডেমি)। এ সময়ে এই মাদ্রাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান সুপারিনটেন্ডন্ট হিসেবে যোগদান করেন।

মাগুরার সাধারণ মানুষ যেমন ছিলেন সহজ-সরল, তেমন কিছুটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন তাই অধিকাংশ মুসলিম পরিবারই মাগুরা হাই ইংলিশ স্কুলকে (বর্তমান মাগুরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়) বিধর্মীদের স্কুলহিসেবে ভাবতেন। ফলে তাঁদের ছেলে-মেয়েকে ঐ স্কুলে ভর্তি করতে অনিহা দেখাতেন।

মাগুরা আব্দুল গনি হাই মাদ্রাসাই ছিল মাগুরার মুসলিমদের একমাত্র পছন্দের বিদ্যাপীঠ। কিন্ত হাই মাদ্রাসা থেকে পাশ করে মুসলমান ছাত্রদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের তেমন কোন সুযোগ ছিল না। হাই মাদ্রাসার পরবর্তী স্তরের শিক্ষা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সুযোগ ছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, হুগলী এবং আসাম প্রদেশের সিলেটে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এ সব স্থানের অবস্থান ছিল মাগুরা থেকে অনেক দূরে। মাগুরা থেকে এ সব স্থানে গিয়ে লেখাপড়া করা ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য ছিল।

মাগুরাবাসির উচ্চশিক্ষার সুযোগ যাতে সহজতর হয় সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৪০ সালে মাগুরা আব্দুল গনি হাই মাদ্রাসা ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দিকে (পুরাতন প্রশাসনিক ভবন যে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবংশহীদ মিনার সংলগ্ন স্থান) দু’টি দোচালা টিনের ঘর তৈরী করে প্রতিষ্ঠিত হয় মাগুরা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হন মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান।

স্যার মোঃ মোখলেছুর রহমান কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এর উন্নয়নের লক্ষ্যে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কলেজটির নামকরণ করা হয় অবিভক্ত বাংলার তদানিন্তন সিভিল সাপ্লাই (ফুড) মন্ত্রী জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে – ”মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ”। অধ্যক্ষ মৌলভী মোঃ মোখলেছুর রহমান মাগুরার স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জনাব হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর নামে নামাঙ্কিত কলেজটির জন্য সাহায্য-সহযোগীতা কামনা করেন। ১৯৪৩ সালে মাননীয় মন্ত্রী কলেজটি পরিদর্শনে আসেন। এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাঁর বন্ধু টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায় বাহাদুর রনদা প্রসাদ সাহা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাড়া পেয়ে আর.পি. সাহা কলেজটির জন্য এক লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রৌপ্যমুদ্রায় পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন।

জন্মদিনে www.maguranews.com ও মাগুরাবাসীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: